মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদলের সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সংঘর্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ নয় জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে এক ছাত্রদল কর্মীকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নয় জনকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পরীক্ষা দিতে এলে এ সংঘর্ষ হয়।
ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন শ্রেণির পরীক্ষায় ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজনের অংশগ্রহণ নিয়ে শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীদের পক্ষে বহিরাগত কয়েকজন অবস্থান নিলে ছাত্রলীগ কর্মী দুর্জয় আহমেদ ও ছাত্রদল কর্মী আল আমিনের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ অবস্থায় লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হন ছাত্রদল, ছাত্রলীগ ও শিক্ষার্থীসহ নয় জন।
আহতরা হলেন- ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী দুর্জয় আহমেদ, ছাত্রদল কর্মী আল আমিন, কামরুল হাসান রবিন, তনয়, মেহেদী হাসান, মো. রিপন, মোহিত, রাকিবুল ও আলিফ। আহতদের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে আল আমিনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ছাত্রলীগের কর্মী দুর্জয় আহমেদ বলেন, ‘আমি একসময় ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি। তবে আমি কোনও পদে নেই। আজ আমার ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি অষ্টম সেমিস্টারের মৌখিক পরীক্ষা ছিল। আমিসহ আমাদের কয়েকজন হলে প্রবেশ করলে ছাত্রদলের আল আমিনসহ ২০-২৫ জন আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারপর দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়।’
আহত ছাত্রদল কর্মী আল আমিন বলেন, ‘বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আমাদের এক সহপাঠীর ওপর হামলা করে। পরে আমরা প্রতিরোধ করতে গেলে আমাদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়।’
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রবিবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত অষ্টম সেমিস্টারের তিনটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা ছিল। এই পরীক্ষায় অংশ নিতে ক্যাম্পাসে আসেন ছাত্রলীগের শিক্ষার্থীরা। তাদের আসাকে কেন্দ্র করে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তেজনা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজিব দে বলেন, ‘এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নয় জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’