ইউপি নির্বাচন : আ’লীগের চার ও বিএনপির চারজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত

টাঙ্গাইল

 টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ১১টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের চারজন ও বিএনপির চারজন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বাকি তিনটি ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দুইজন ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী একজন বিজয়ী হয়েছেন।

সারাদেশে ২২ মার্চ প্রথম দফায় ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী ২৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। দুই একটি বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ছাড়া মোটামুটি শান্তিপূর্ন পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

১১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫৯ জন,সাধারণ সদস্য পদে ৪৪৫জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করেন। ১১টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ২ লাখ ৩ হাজার ৭শ ৫৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪ হাজার ৫শ ৭২ জন এবং মহিলা ভোটার ৯৯ হাজার ২শ ৫৩ জন।

নাগরপুর সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. কুদরত আলী নৌকা প্রতীকে ৭ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান হবী ধানের শীর্ষ প্রতীকে ৫ হাজার ৩৬৫ ভোট পেয়েছেন।

ধুবরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মতিয়ার রহমান নৌকা প্রতীকে ৫ হাজার ৬৬০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুর রহমান খান শাকিল আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৪৩০ ভোট।

বেকড়া আটগ্রাম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. শওকত হোসেন নৌকা প্রতীকে ২ হাজার ৭৮৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আব্দুল বারী পেয়েছেন ২ হাজার ২২৯ ভোট।

মোকনা ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী মো. আতাউর রহমান খান ধানেরশীষ প্রতীকে ৫ হাজার ২০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী শরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ হাজার ৩০০ ভোট।

সলিমাবাদ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী  দাউদুল ইসলাম দাউদ নৌকা প্রতীকে ৪ হাজার ২০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. এমদাদ হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ২০০ ভোট।

ভাদ্রা ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান খান ধানের শীষ প্রতিকে ৩ হাজার ১০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো. শওকত আলী চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৮০০ ভোট।

সহবতপুর ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. তোফায়েল মোল্লা ঘোড়া প্রতিকে ৭ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আনিসুর রহমান আনিস নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ১২ ভোট।

মাহমুদ নগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন আনারস প্রতিকে ৭ হাজার ১৬১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ কামাল হোসেন নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৫৯ ভোট।

গয়হাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান আসকর ঘোড়া প্রতিকে ৭ হাজার ৬০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ শামছুল হক নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৩০০ ভোট।

দপ্তিয়র ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী এম ফিরোজ সিদ্দিকী ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে ৫ হাজার ২০০ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. লুৎফর রহমান আনারস প্রতিক নিয়ে ৩ হাজার ১০০ ভোট পেয়েছেন।

পাকুটিয়া ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে ৩৬২৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী জগলুল হায়দার সিদ্দিকী ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৩৯৮টি ভোট।

 

/জেবি/