আদালতে রিটের পরও তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছি: বিএনপির প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিলেন অপর সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। পরবর্তীতে আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দিলে প্রার্থিতা ফিরে পান বিএনপির এই প্রার্থী। তবে তিনি বলেছেন, ‘আদালতে আমার বিরুদ্ধে রিটের পরও আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছি।’

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকালে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। তিনি কৃষক দলের সহসভাপতি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনে দলটির প্রার্থী নায়াব ইউসুফ আহমেদ ও ফরিদপুর-৪ আসনের প্রার্থী কৃষক দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম।

প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির এই তিন প্রার্থী। এ সময় খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘ফরিদপুরের চারটি আসনের মধ্যে ফরিদপুর-১ একটু ব্যতিক্রমধর্মী। আপনারা দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম দেখেছেন, আজকেও আমাকে হাইকোর্টের মাধ্যমে ঠেকিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করা হয়েছিল। রিট করা হয়েছিল। আপনাদের দোয়ায়, আল্লাহর অশেষ রহমতে সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আমাদের প্রিয় অভিভাবক ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে আমার আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে ধানের শীষ প্রতীক গ্রহণ করলাম।’

তবে তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকদের কাছে তার এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন অপর প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি বলেন, ‘খন্দকার নাসিরুল ইসলাম যেটা বলেছেন সেটা আমাদের ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন এবং নানা ষড়যন্ত্র ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ধানের শীষ পেয়েছেন। সর্বশেষ আদালতে বিজয়ী হয়ে এসেছেন।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খন্দকার নাসিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের (এনডিএফ) প্রার্থী শাহ মো. আবু জাফর। পরে তার এই আবেদন খারিজ করে নাসিরুল ইসলামকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এরপর শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন আবু জাফর। তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০ বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন এবং চারবার নির্বাচিত ও ছয়বার পরাজিত হন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহ মো. আবু জাফর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি যে আবেদন করেছিলাম তা নির্বাচন কমিশন আমলে না নিয়ে তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর আর আমি কোথাও রিট করিনি।’