আমি যদি এখন অন্যদের সম্পর্কে গিবত গাই, আপনার কি পেট ভরবে: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি চাইলে এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করতে পারতাম। কিন্তু আমি কোনও সমালোচনা করিনি কিংবা তাদের নামও নিইনি। কারণ সামনে নির্বাচন, আমি কী করবো না করবো, দেশের মানুষ আমার থেকে সেটা জানতে চায়। আমি যদি এখন অন্য মানুষদের সম্পর্কে গিবত গাই, আপনার কি পেট ভরবে? আপনারাতো আমার কাছে জানতে চান, আমি ক্ষমতায় গেলে কী করবো। এটা দুইয়ে দুইয়ে চারের মতো সোজা হিসাব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কতগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি দেশের মানুষের জন্য, যেগুলো আমরা সফল করতে চাই। দুই দিন ধরে আমাদের পরিকল্পনাগুলোর কথা আমি বারবার বলছি। কারণ বিএনপি সরকার গঠন করলে আমাদের দল সেই পরিকল্পনাগুলো সফল করতে চায়। কিন্তু কোনও কোনও দল আছে, দেশের মানুষকে ধোঁকা দিতে চায়। আচ্ছা দেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়ে কোনও লাভ আছে? আমরাতো রাজনীতি করি, দিন শেষে সেই দেশের মানুষের কাছেই ফিরে আসতে হবে। বিএনপি আল্লাহর রহমতে কয়েকবার দেশ পরিচালনা করেছে।’

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজি ফুলতলী মাঠে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশ পরিচালনায় বিএনপি একটি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দল। তাই কোনও পরিকল্পনা করে সেটা কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হয়, বিএনপি তা ভালো করে জানে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমরা সরকার গঠন করলে প্রতিটি ঘরে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড দেবো, সেখানে আমাদের মা-বোনদের আমরা প্রতি মাসে কিছু সহযোগিতা করবো। আমরা কিন্তু একবারও বলিনি যে প্রতি মাসে যা যা লাগবে, তার সম্পূর্ণটাই দেবো। আমরা বলেছি, সরকার থেকে আমরা কমপক্ষে ৭ দিনের একটি সহযোগিতা গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষদের কাছে পৌঁছে দেবো। আমরা এই কাজ করতে যাচ্ছি। আমরা একবারও বলিনি, আমরা একেবারে সবাইকে একসঙ্গে দিয়ে দেবো। আমরা বলেছি, এই কাজ আমরা ধীরে ধীরে করবো। কারণ সরকারের অর্থকড়ির ব্যবস্থা আছে, অল্প অল্প করে আমরা এগোবো।’

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘যেহেতু একটি রাজনৈতিক সরকারের মেয়াদ থাকে পাঁচ বছর, আমরা চেষ্টা করবো এই পাঁচ বছরে যত বেশি সংখ্যক মায়েদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া যায়। এটাই একদম সোজাসাপটা কথা, এর মধ্যে কোনও মারপ্যাঁচ নেই। এখন যারা বলছেন, তাদের হিংসা হচ্ছে। কারণ তারা মানুষের জন্য এমন ভালো কিছু উপস্থাপন করতে পারেননি। তাদের এমন আইডিয়া নেই। কারণ তাদেরতো দেশ পরিচালনায় অভিজ্ঞতা নেই। সে জন্যই তারা আবোল-তাবোল কথা বলছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, আমরা কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চাই। কৃষক ভাইদেরও আমরা একটি কৃষক কার্ড দিতে চাই। কেউ কেউ বলছেন, এটাও নাকি আমরা ধোঁকা দিচ্ছি। এখন ভাই দেখেন, ধোঁকা দিলে লস তো আমার। আপনাকে আমি ধোঁকা দিলে তো পরবর্তী সময়ে আপনি আমাকে আর বিশ্বাস করবেন না। আমাকেতো রাজনীতি করতে হবে। আপনাকে আমি যে জবান দিচ্ছি, সে জবান না রাখলেতো আপনি আমাকে পরবর্তী সময়ে আর বিশ্বাস করবেন না। আমি যদি না পারি, তাহলে আপনারাওতো বুঝবেন যে আমি সেটা পারিনি। কিন্তু আমি যদি না করি, অর্থাৎ আমার জবানই যদি আমি না রাখি, তখন আপনারা আমাকে ধরতে পারবেন। এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আমরা সার, বীজ, কীটনাশক—এসব প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেবো।’

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, চাঁদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া প্রমুখ।