শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকার জামায়াতের একটি নির্বাচনী কার্যালয় থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় সেখান থেকে আটক ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা এক পোলিং কর্মকর্তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারক কমিটির বিচারক ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেন। পরে নড়িয়া থানা পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠায়। দণ্ডপ্রাপ্ত পোলিং কর্মকর্তার নাম গোলাম মোস্তফা। তিনি নড়িয়ার ১২৭ নম্বর হাজী সৈয়দ আহম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। উপজেলার পঞ্চপল্লী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন।
শরীয়তপুর-২ আসনে নির্বাচনে আট জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদ হোসেন ও বিএনপির প্রার্থী সফিকুর রহমান।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস জানান, নড়িয়া পৌরসভার একটি বাড়িতে জামায়াতের কর্মীরা নির্বাচনী কাজে টাকা বিতরণ করছেন—এমন খবরের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী সেখানে যায়। খবর পেয়ে তিনিও যান। সেখান থেকে টাকা বিতরণের একটি তালিকা, ল্যাপটপ, হার্ডডিস্ক পাওয়া যায়। পরে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ওই কার্যালয়ের ভেতরে একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে পাওয়া যায়, যিনি একটি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। ওই শিক্ষক সেখানে কেন গিয়েছিলেন, তার ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আর টাকা ও অন্যান্য জিনিস জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপি সূত্র জানায়, নড়িয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে নির্বাচনী কার্যালয় খোলেন শরীয়তপুর-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদ হোসেন। সেখান থেকে তার নির্বাচনী কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। বুধবার বিকালে সেখানে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। অভিযানের সময় সেখান থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তখন সেখানে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন। ওই কার্যালয় থেকে তখন হাজী সৈয়দ আহম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফাকে আটক করা হয়।
হাজী সৈয়দ আহম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকারিয়া মাসুদ বলেন, ‘কেন, কোন পরিপ্রেক্ষিতে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা কিছুই বিস্তারিত বলতে পারব না। উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে তথ্যটি আমি শুনেছি।’
শরীয়তপুর-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের মিডিয়া সেলের প্রধান মাসুদ কবির বলেন, ‘নির্বাচনী এলাকায় ১৩৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। সেই কেন্দ্রে আমাদের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের যাতায়াত, সকাল ও দুপুরের খাবার বাবদ ব্যয় করার জন্য ওই টাকাটি আমাদের কার্যালয়ে রাখা ছিল। সেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে স্থানীয় প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে। অথচ বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে অবৈধভাবে টাকা বিতরণ করা হচ্ছিল—এমন অভিযোগ আমরা করেছিলাম। সেদিকে নজর না দিয়ে আমাদের দুর্নাম করার জন্য অনিয়মতান্ত্রিকভাবে এ অভিযান চালানো হয়। সেখানে আমাদের অন্যান্য নেতা ও কর্মীদের ওপর বিএনপির সমর্থকরা চড়াও হয়েছেন, যা দুঃখজনক। আমরা এ ঘটনার বিচার চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানাবো।’