এবার বিনা নোটিশে আকস্মিক মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনে তিনি চিকিৎসক অনুপস্থিতি ও অব্যবস্থাপনার চিত্র প্রত্যক্ষ করেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী। তার হঠাৎ হাসপাতালে উপস্থিতিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী প্রত্যক্ষ করেন, নির্ধারিত অফিস সময় পার হলেও কয়েকজন চিকিৎসক কর্মস্থলে নেই।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত ৩২ চিকিৎসকের মধ্যে ১২ জন বিভিন্ন স্থানে সংযুক্ত (অ্যাটাচমেন্ট) রয়েছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন চিকিৎসক অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে সীমিত জনবল দিয়েই হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ৩২ চিকিৎসকের মধ্যে অনেকেই অনুপস্থিত থাকলে একটি উপজেলা হাসপাতালের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলা কঠিন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনে অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যারা নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকবেন না বা দায়িত্বে গাফিলতি করবেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, স্টোররুম, বাথরুম ও আশপাশের পরিবেশ ঘুরে দেখেন। কয়েকটি স্থানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পেয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। সচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে তিনি প্রতীকীভাবে কিছু ময়লাও পরিষ্কার করেন।
এ সময় তিনি রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে সেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। কয়েকজন রোগী চিকিৎসক সংকট ও অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হওয়ার অভিযোগ করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোকে দুর্নীতি ও দালালমুক্ত করতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন সরকারি হাসপাতালে এসে কোনও হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহে অনিয়ম, রোগীদের জন্য বরাদ্দ খাবার ঠিকমতো না দেওয়া এবং চিকিৎসক-নার্সদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অনিয়ম বন্ধে নজরদারি জোরদার করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে সহজে চিকিৎসা সেবা পায়, সে জন্য উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়ানো হবে।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাবেল উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাফসান রেজা, সিংগাইর থানার ওসি মাজাহারুল ইসলামসহ চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বুধবার (১১ মার্চ) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীও সিংগাইর উপজেলায় আকস্মিক পরিদর্শনে এসে বিভিন্ন দফতরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন।