গাজীপুরের শ্রীপুরে পরিত্যক্ত শৌচাগারের গর্ত থেকে বিদেশি ৪২ বোতল মদ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী দুলাল ও রাজীব দৌড়ে পালিয়ে যায়। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের দক্ষিণ বারতোপা গ্রামের পোস্ট মাস্টার জালাল উদ্দীনের বসতবাড়ির পরিত্যক্ত শৌচাগার থেকে মদের বোতলগুলো উদ্ধার করা হয়।
তবে স্থানীয় লোকজন ৪২ বোতল মদ পুলিশের কাছে জমা দিলেও পুলিশ বলছে ২৫ বোতল। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা চলছে। তারা বলছেন, মদ উদ্ধার এবং পুলিশের কাছে হস্তান্তরের একটি লাইভ ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেছেন স্থানীয় এক যুবক। পরে পুলিশ বলছে, ২৫ বোতল। বাকিগুলো গেলো কই।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে, মাওনা ইউনিয়নের দক্ষিণ বারতোপা গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে দুলাল (২৫) এবং শাফির ছেলে রাজীব (৩২) এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসা করে আসছেন।
গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে নজরদারিতে রেখেছিলাম। বুধবার দুপুরে জানতে পারি মাদক ব্যবসায়ীরা মদের একটি বড় চালান নামাচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় দূর থেকে আমাদের দেখে কয়েক বোতল মদ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্ত থেকে ৪২ বোতল উদ্ধার করা হয়। পরে শ্রীপুর থানার চকপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। তার কাছে কাছে আমরা ৪২ বোতল মদ বুঝিয়ে দিই। মদ উদ্ধারের পর হস্তান্তরের লাইভ ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেছি আমরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসআই মিজানুর রহমানের সামনে ৩২ বোতল মদসহ তার ছবি তোলা হয়। বাকি ১০ বোতল একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ছিল। কেন তিনি বাকি ১৭ বোতলের কথা অস্বীকার করছেন, তা আমি জানি না।’
চকপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, ‘৪২ বোতল নয়, ২৫ বোতল মদ উদ্ধারের পর হস্তান্তর করেছেন স্থানীয় লোকজন।’ বাকি ১৭ বোতল মদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২৫ বোতলের বেশি আমি পাইনি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মদ উদ্ধারের বিষয়টি শুনেছি। তবে বোতলের সংখ্যা কম-বেশি হওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে এ নিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ বলেন, ‘মদ উদ্ধারের বিষয়টি শুনেছি। উদ্ধারকৃত মদের বোতলগুলো চকপাড়া পুলিশ ক্যাম্প এখনও থানায় হস্তান্তর করেননি। আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। তবে মদের বোতল কম হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। বোতল কম বেশি হওয়ার বিষয়ে যদি কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থ গ্রহণ করা হবে।’