এখনও প্রস্তুত নয় সাভার, উভয় সংকটে ট্যানারি মালিকরা

সাভারের হেমায়েতপুরসাভারে নির্মাণাধীন চামড়া শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) কাজ এখনও শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। কয়েক দফা সময় দেওয়ার পরও রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় কারখানা স্থানান্তর করতে পারছেন না ট্যানারি মালিকরা। এদিকে হাজারীবাগে কাঁচা চামড়া প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন ট্যানারি মালিকরা।
সরেজমিনে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় চামড়া শিল্প নগরী ঘুরে দেখা গেছে, এখনও অধিকাংশ কারখানার কাজ শেষ হয়নি। হাতে-গোনা কয়েকটি কারখানার কাজ ৭০ থেকে ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। এগুলোর পুরো কাজ শেষ হতে আরও অন্তত দুই-তিন মাস লেগে যাবে।
এর মধ্যে কয়েকটি কারখানায় শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আবার কয়েকটি কারখানার যাবতীয় অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলেও এখনও দেখা মেলেনি গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগের। ফলে কোনও সুফল পাচ্ছেন না কারখানা মালিকরা। মূলত কারখানা চালু করতে গেলে বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে গ্যাস ও পানির সংযোগও প্রয়োজন।
অন্যদিকে হেমায়েতপুরে শিল্পনগরীর ভেতরে বরাদ্দকৃত প্লট পুরোপুরি খালি অবস্থায় ফেলে রেখেছেন অনেক প্লট মালিক। কবে নাগাদ এসব প্লটে কারখানার অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করা হবে সেটাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। তবে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, সরকার থেকে প্লট মালিকদের কাউকে এখন পর্যন্ত জমির দলিল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে ব্যাংক থেকে কোনও ঋণ নিতে পারছেন না প্লট মালিকরা। আর এ কারণেই অনেকটা অর্থ সংকটে বাধ্য হয়েই প্লটগুলো ফাঁকা রাখতে হচ্ছে মালিকদের।

সাভারের হেমায়েতপুর

সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে নির্মাণাধীন কারখানা মেসার্স লিয়েন এন্টারপ্রাইজের মালিক শাহ্ এমরান পাটোয়ারী বলেন, আমাদের কোনও কারখানায় এখন পর্যন্ত গ্যাস ও পানির সংযোগ লাগেনি। কয়েকটি কারখানায় মাত্র বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তাই কারখানা চালু করা সম্ভব হয়নি। কারখানা চালু করতে গেলে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ এ তিনটি সংযোগ সবার আগে প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি।

সাভারের হেমায়েতপুর

এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, আমরা হাজারীবাগ থেকে সাভারের এই স্থানটিতে কারখানা স্থানান্তর করে কী করবো? আমাদের এই শিল্প নগরীতে প্রবেশের জন্য এখনও কোনও প্রশস্ত রাস্তা নেই। আমরা কী করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর থেকে ট্রাকে কাঁচা চামড়া নিয়ে এই চামড়া শিল্প নগরীতে আসবো।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার রাজধানীর হাজারীবাগে কাঁচা চামড়া প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে। আর সাভারের হেমায়েতপুরের ট্যানারি শিল্পনগরী এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে বলে তিনি জানান।

সাভারের হেমায়েতপুর

অপরদিকে, রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে মূলত যে কারণে ট্যানারি সাভারের হেমায়েতপুরে হস্তান্তর করা হবে তার মধ্যে মুখ্য একটি কারণ হলো- ট্যানারির বর্জ্য থেকে বুড়িগঙ্গার দূষণ রোধ করা। আর এজন্য সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে নির্মাণ করা হচ্ছে ‘কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি)’। তবে নির্মাণাধীন এই সিইটিপি’র নির্মাণকাজ গত একমাস বন্ধ রয়েছে বলে দেখা গেছে। আর এই নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় খোলা-আকাশের নিচে পড়ে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে সিইটিপি’র মূল্যবান যন্ত্রাংশ।

এ বিষয়ে জানতে সিইটিপি’র নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা প্রকৗশলী একরামুল শেখ জানান, এ-ওয়ান, এ-টু, এ-থ্রিও এ-ফোর ক্যাটাগরিতে নির্মাণ করা হচ্ছে সিইটিপি। এর মধ্যে এ-টু’র ৪০ ভাগ এবং এ-থ্রি ও এ-ফোরের ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ অর্থ সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিকবার চিঠিও দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন এই প্রকৌশলী। প্রয়োজনীয় অর্থ পেলেই আবার সিইটিপি’র কাজ শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিইটিপি নির্মাণ কাজের সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তি বলেন, নির্মাণাধীন সিইটিপি’র বাকি কাজসহ পুরো কাজ শেষ করতে আরও অন্তত তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার চামড়া শিল্প নগরীরর প্রকল্প পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ট্যানারির যেসব মালিকরা বিদ্যুৎ ও পানির জন্য আবেদন করেছেন তাদের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে গ্যাসের সংযোগ দিতে একটু দেরি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি কারখানা সাভারে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে লক্ষ্যে সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকায় ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমির ওপর পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরী নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

/এফএস/ এএইচ/