আমরা ছেড়ে দেবো না, শেষ লড়াই চালিয়ে যাবো: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দ্বিতীয় গণভোট হয়েছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে। সে সময়েও আপত্তি করেন নাই। তৃতীয় গণভোট হয়েছে বেগম জিয়ার হাতে। সেটাও মেনে নিয়েছেন। কিন্তু চতুর্থ গণভোট হয়েছে জনগণের হাতে, এইটা আপনারা মেনে নেবেন না’।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা ছেড়ে দেবো না। কথা ওনারাও দিয়েছিলেন, আমরাও দিয়েছি। কিন্তু আমরা আমাদের জায়গায় আছি। ওনারা সরে গেছেন। আমরা গণভোটের জন্য শেষ লড়াই চালিয়ে যাবো। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সেই দাবি আদায় করবো। জনগণের রায় বিফলে যাবে না।’

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকালে মুন্সীগঞ্জের একটি পার্টি সেন্টারে জেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।   

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার আমাদের একটা বাজেট দিয়েছেন। বাজেটে ৫০-৬০টি আইটেমে কর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এক টাকাও কমেনি। কারণ সব জায়গায় সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট আবার রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে ও আশ্রয়ে ওই সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়।’

এ সময় জামায়াত আমির প্রশ্ন তোলেন, ‘বাজেটে অনেক কর ছাড় দেওয়া হলো, কিন্তু এতে যদি জনগণের জীবনে যদি ইতিবাচক পরিবর্তন, স্বস্তি না আসে তাহলে এটার বেনিফিট কে নিচ্ছে?’

বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা সংসদে গিয়ে প্রথমেই বলেছি জনগণের রায়টাকে মানেন। গণভোটকে মেনে নেন। আমরা যেটা শপথ নিয়েছি, আপনারাও শপথ নেন। কিন্তু ওনারা বলেন গণভোট সংবিধানে নেই। জিয়াউর রহমান প্রথম গণভোট করেছিলেন কোন সংবিধানে? যদি জিয়াউর রহমানকে সম্মান করেন, তার গণভোটকে সম্মান করেন, তাহলে ২০২৬ গণভোটকে কেন সম্মান করেন না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সংবাদমাধ্যম বিবেকের আলোকে সত্যকে তুলে ধরবে এবং মিথ্যার সঙ্গে আপস করবে না। আমাদের যুবসমাজ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা করে, সেটি আমরা পেয়ে যাবো। এখানে যারা ক্যামেরা ধরে আছেন, আমি দেখতে পাচ্ছি এখানে কোনও বয়স্ক মানুষ তেমন নাই। আমি একজন যুবক এবং আপনারা আরও বেশি যুবক। আমরা আপনাদের স্বপ্নের কথা বলছি, প্রত্যাশার কথা বলছি। এ সমাজ আপনাদের, শুধু আমার নয়, সবার। আমরা সেই প্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে যেতে চাই। আবার সেই সমাজের প্রয়োজনে যা উত্তম, যা কিছু ভালো, পরামর্শ দিয়েও আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমরা একসঙ্গে লড়াই করতে চাই, এই সমাজকে মুক্ত করতে চাই, একটি মানবিক বাংলাদেশ করতে চাই, একটি ন্যায় বাংলাদেশ করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন একটি বাংলাদেশ করতে চাই, গরিব আদালতে গেলে বিচার পাবে, ধনীও আদালতে গেলে বিচার পাবে। বিচারের বাণী আর নিভৃতে কাঁদবে না, সেই বাংলাদেশটা আমরা করতে চাই।’

বার্ষিক রুকন সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।