টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণে নৈর্ব্যক্তিক ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন এইচএসসির পরীক্ষার্থীরা। এতে পরীক্ষায় পাস করা নিয়ে শঙ্কিত শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার দায়ে ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের কেন্দ্রসচিব মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন খানকে শোকজ করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে কেন্দ্রসচিব পরীক্ষায় দায়িত্বে থাকা তিন শিক্ষককে শোকজ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় পাশের লোকমান ফকির মহিলা ডিগ্রি কলেজ, শহীদ জিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও নিকরাইলের শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজের ১৪ জন শিক্ষার্থী গত শনিবার মনোবিজ্ঞান পরীক্ষা দেন। এ সময় নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্র ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালেরটা দিয়ে পরীক্ষা নেন শিক্ষকরা। পরে পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে গিয়ে প্রশ্ন মিলিয়ে দেখতে পান ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা স্ব স্ব কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপরে বিষয়টি ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ বোর্ড থেকে সমাধান করার আশ্বাস দেয়।
এদিকে, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেননি ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের কেন্দ্রসচিব প্রফেসর মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন খান।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, পরীক্ষা শেষে বাসায় গিয়ে প্রশ্ন মেলাতে গিয়ে দেখা গেছে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র। পরীক্ষায় দায়িত্বরত শিক্ষকদের গাফিলতির কারণে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এটা আদৌ সমাধান হবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কিত তারা। এখন ওই ১৪ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে কী হবে।
লোকমান ফকির মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল আল হাবিব বলেন, ‘ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষার বিষয়টি ইবরাহীম খাঁ কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে এটার সমাধান করবে বলে জানিয়েছেন।’
ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘এই ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে তিন জন শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। আর দুজনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন দুই শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ১৪ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দিয়েই মূল্যায়ন করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান বলেন, ‘ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিলেও কেন্দ্রসচিব তা অবহিত করেননি। রাতে অন্য শিক্ষকের মাধ্যমে জানার পর বোর্ডে যোগাযোগ করা হয়। ১৪ শিক্ষার্থীর পরীক্ষার বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বোর্ড থেকে। ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষার ঘটনায় কেন্দ্রসচিবকে শোকজ করা হয়েছে।’