সাভারে জেএমবির আস্তানা থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় মামলা

সাভারের শ্যামপুরে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও আইইডি তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় নব্য জেএমবির ছয় সদস্যসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। এ মামলায় মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান (২৬) নামে একজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বাকি পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে রাতে কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলাটি করেন। মামলাটি ৫৫ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

মামলার এজাহারে আসামিরা হলেন—কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি থানার ফেকামারা এলাকার মো. হানিফের ছেলে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান (২৬), সাভারের শ্যামপুরের মৃত ইসমাইলের ছেলে মো. নাজমুল হাসান মামুন (৩২), পাবনার সুজানগর থানার দুর্গাপুর এলাকার মো. আমিন উদ্দিন খানের ছেলে মো. আক্কাস আলী (৩০), আশুলিয়ার দিয়াখালী এলাকার কামাল হোসেন ডাক্তার (৪৫), রাখী (৩০) ও রাকিব (৩০)।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট রাতে সাভারের ট্যানারি এস্টেটের পশ্চিম দেয়ালসংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় নব্য জেএমবির ওই সদস্যরা নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকে মিলিত হন। পরে সিটিটিসির একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে আরিফকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যান।

গ্রেফতার আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরের একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেখান থেকে ৯৮ শতাংশ ঘনমাত্রার সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম নাইট্রেট পাউডার, আইইডি তৈরির ডেটোনেটর, রিমোট কন্ট্রোলার, ভোল্টমিটার ও বিয়ারিং বলসহ প্রায় আড়াই ডজন আলামত জব্দ করা হয়।

এ ছাড়া বাসাটি থেকে উদ্ধার করা ১০টি তৈরি পাইপ বোমা বা আইইডি জননিরাপত্তার স্বার্থে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক নূর মোহাম্মদ বলেন, গ্রেপ্তার আরিফকে বর্তমানে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হবে।

পলাতক আসামিদের বিষয়ে তিনি বলেন, এজাহারভুক্ত পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তারে সিটিটিসির একাধিক দল, র‌্যাব ও অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের (এটিইউ) সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন। তাদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, শ্যামপুরের ঘটনায় এজাহারভুক্ত ছয়জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার বাদী সিটিটিসির এসআই মো. আলমগীর হোসেন।

তিনি আরও জানান, ১২ আগস্ট বনগাঁও এলাকায় প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হতে পারে।