শিক্ষক শূন্যতাসহ চতুর্মুখী সংকটে শ্রীপুর সরকারি কলেজ, পাঠদানে বিঘ্ন

গাজীপুরের শ্রীপুর সরকারি কলেজে কমপক্ষে ডজনখানেক শিক্ষক পদ এবং দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির একাধিক পদ শূন্য রয়েছে। বিকল্প শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে চলছে পাঠদান। কোনও কোনও ক্ষেত্রে পঠন-পাঠনে বিঘ্ন সৃষ্টির কথাও তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মাস্টার্স নেই, কিন্তু খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ভিন্ন বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। এই কলেজে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি। কলেজটির অভ্যন্তরীণ একটি বড় আয়ের উৎস অনার্স ডিসিপ্লিন। শিক্ষা ক্ষেত্রে এ কলেজের বড় একটি সাফল্য হলো প্রতি বছর অনার্সের প্রত্যেকটি বিভাগ থেকে গড়ে কমপক্ষে দেড়শ’ শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে থাকে। কক্ষ ও ল্যাব সংকটসহ নানা সংকটের মধ্যেও উপজেলার উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি মেরুদণ্ড সোজা করেই চলছে বলে দাবি করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর আগে জাতীয়করণের আওতাভুক্ত হয় শ্রীপুর সরকারি কলেজ। বয়সের মাপকাঠি ভেদে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষক অবসরে গিয়েছেন। আবার কেউ মৃত্যুবরণ করায় শূন্য হয়েছে অনেক পদ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-ইসলাম শিক্ষা, সমাজকর্ম, হিসাব বিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান, গণিত, ইতিহাস, ব্যবস্থাপনা, মার্কেটিং, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংষ্কৃতি, রসায়ন, পদার্থ বিজ্ঞান, কৃষি বিজ্ঞান, ইংরেজি, প্রাণিবিদ্যা, অর্থনীতি বিষয়ে একজন করে সহকারী অধ্যাপকের পদ শূন্য রয়েছে। কোনো বিষয়ে একাধিক প্রভাষকের পদও শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি বাংলা বিভাগে একজন অধ্যাপক সংযুক্ত হয়েছেন। এছাড়া একজন উপাধ্যক্ষের পদও শূন্য রয়েছে। পদ সৃজন না হওয়ায় অধ্যক্ষ পদে একজন সংযুক্ত রয়েছেন।

অন্যদিকে, সহকারী গ্রন্থাগারিক, প্রদর্শক, অফিসে কর্মরত একজন প্রধান সহকারী এবং হিসাবরক্ষক অবসরে গিয়েছেন। অফিসে মাত্র একজন তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারী রয়েছেন। অফিসের জন্য খণ্ডকালীন একাধিক কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে বিভাগীয় তহবিল থেকে পারিতোষিক দিয়ে দুই বিভাগ সমন্বয় করে একজন সেমিনার সহকারী দুটি বিভাগ বা সেমিনারের দায়িত্ব পালন করছেন। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি নেই এমন ব্যক্তিদেরও খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পঠন-পাঠনে বিঘ্ন সৃষ্টির কথাও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

কলেজ সূত্র জানায়, কলেজের অভ্যন্তরীণ একটি বড় আয়ের উৎস হচ্ছে অনার্স ডিসিপ্লিন। এত সংকটের মধ্যেও অনার্সের ১০টি বিভাগ থেকে প্রতি বছর গড়ে কমপক্ষে দেড়শ’ শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক উত্তীর্ণ হওয়ার গৌরব অর্জন করছে। সাধারণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারীদের দাবি কক্ষ ও ল্যাবের অপ্রতুলতা সংকটের আরেকটি দিক। নানা সংকটের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি অনেকটা মেরুদণ্ড সোজা করেই চলছে বলেও দাবি করেন তারা।

এসব বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর লুৎফর রহমান জানান, শিক্ষক-কর্মচারী সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলা বিভাগে একজন অধ্যাপক সংযুক্ত করা হয়েছে। অন্যান্য বিভাগগুলোতেও কর্তৃপক্ষ চাইলে অনুরূপভাবে সংযুক্ত করতে পারেন। কক্ষ ও ল্যাব সংকটের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যের চাহিদাপত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে ভবন সম্প্রসারণ কার্যক্রম চলমান। পরে আরও সম্প্রসারণ কাজ চলবে।