গাজীপুর সিটি মেয়র মান্নান ফের গ্রেফতার

মেয়র এম এ মান্নানগাজীপুর সিটি করপোরেশনের (জিসিসি) মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এ মান্নানকে ফের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তার সঙ্গী আরও ৭ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তাকে কালিয়াকৈরের ভান্নারা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। মেয়র মান্নানের বিরুদ্ধে পুরোনো একটি নাশকতার মামলা ছাড়াও শুক্রবার রাতে চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রোল দিয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার রেজাউল হাসান রেজা জানান, নাশকতার মামলায় অধ্যাপক এমএ মান্নানকে কালিয়াকৈর উপজেলার ভান্নারা এলাকা থেকে রাত ১০টার দিকে গ্রেফতার করে ১১টার দিকে জয়দেবপুর থানায় নেওয়া হয়। তাকে জয়দেবপুর থানার নাশকতার একটি পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার রাতে চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকায় একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে বলে তার (অধ্যাপক মান্নানের) বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। মান্নানের সঙ্গে তার সঙ্গী আরও ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, রাত ৯টার দিকে যাত্রী উঠানামা করানোর জন্য চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা কালিয়াকৈর-গাজীপুর রুটে চলাচলকারী কেপি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে জয়দেবপুর ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভায়। আগুনে বাসটি আসনগুলো পুড়ে গেছে।
মেয়র এমএ মান্নানের পরিবার সূত্র ও বিএনপির নেতাকর্মীরা জানায়, সদ্য কারামুক্ত জিসিসি মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান শুক্রবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর সালনা এলাকায় জুমার নামাজ আদায় করেন। পরে তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর হয়ে কালিয়াকৈর উপজেলার চা-বাগান-মৌচাক সড়ক দিয়ে ঢাকার বাসায় ফিরছিলেন। পথে সাদা পোশাকে গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার ভান্নারা বাজার এলাকায় মেয়র মান্নানের গাড়ির গতিরোধ করেন। এসময় জয়দেবপুর থানার নাশকতার একটি পুরোনো মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এসময় তার সঙ্গী আর ৭ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। মেয়র মান্নানকে প্রথমে কালিয়াকৈর থানায় পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে রাত ১১টার দিকে তাকে জয়দেবপুর থানায় নেওয়া হয়। তাকে সন্ধ্যায় আটক করা হলেও কয়েক ঘণ্টা পর রাত ৯টায় সিলিন্ডার ফেটে বাসের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে নাশকতা দেখিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে যাত্রীবাহীবাসে পেট্রোলবোমা হামলার মামলায় ওই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার বারিধারার ডিওএইচএস’র নিজ বাসা থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (জিসিসি) মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এ মান্নানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে ২২টি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এসব মামলার প্রায় সবই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ ও হরতালকালে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হত্যা, নাশকতা, বিস্ফোরক ও পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দানসহ বিভিন্ন আইনে দায়ের করা হয়েছে। অধ্যাপক এমএ মান্নান সবকটি মামলায় জামিন লাভের পর গত ২ মার্চ উচ্চ আদালতের আদেশে তিনি জামিনে কারামুক্তি পান। তার অবর্তমানে গত বছরের ৮ মার্চ থেকে প্যানেল মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জয়দেবপুর থানার একটি ফৌজদারি মামলায় মান্নানের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র ২০১৫ সালের ১২ মে গাজীপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে গৃহীত হওয়ায় ওই বছরের ১৯ অগাস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগ তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে। কারা মুক্তির পর গত ৩১ মার্চ এ সাময়িক বহিষ্কারাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এম এ মান্নান। মেয়র মান্নানকে দেওয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ওই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ গত সোমবার ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। পরে বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের আপিল করলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রাখেন।

/এএইচ/

 

আরও খবর পড়ুন- 

৮ হাজার আল কায়েদা জঙ্গির কথা জানালেন তথ্যমন্ত্রী

কে এই আবু জান্দাল আল-বাঙালি