স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ৩ মিনিটে ৮১ বার ‘স্যার’ ডাকলেন সিভিল সার্জন

মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আইভি ফেরদৌস একটি মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে তার মাত্র ৩ মিনিটের বক্তব্যে ৮১ বার ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই ঘটনাটি ঘটে।

জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিভিল সার্জন ডা. আইভি ফেরদৌস যখন মানিকগঞ্জ জেলার স্বাস্থ্য সমস্যা, সংকট ও সমাধান পরিস্থিতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরছিলেন, তখন তিনি অতি অল্প সময়ে (৩ মিনিট) রেকর্ড ৮১ বার ‘স্যার’ শব্দটি ব্যবহার করেন। এটি সভায় উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং একপর্যায়ে কৌতূহল ও গুঞ্জনের জন্ম দেয়।

শুধু সিভিল সার্জনই নন, ওই একই সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামানও তার মাত্র ১ মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ১০ বার ‘স্যার’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ৬৪ জেলার সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকির জন্য ৩০ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেন। তারই অংশ হিসেবে মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন মানিকগঞ্জে এই সমন্বয় সভায় অংশ নেন।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের সঙ্গে ভালো আচরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহযোগিতাও জরুরি।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক জামিলুর রশিদ খান, জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট আ ফ ম নূরতাজ আলম বাহার, সিভিল সার্জন ডা. আইভি ফেরদৌস।

এ ছাড়া জেলার সাত উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা, মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও সদর হাসপাতালের কর্মকর্তা এবং জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, জনবল ও ওষুধের ঘাটতি দূর করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। একই সাথে মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার নির্দেশনা দেন।

তবে সিভিল সার্জনের এই ঘন ঘন ‘স্যার’ ডাকার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ চাঞ্চল্য ও হাস্যরসের তৈরি করেছে।