বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশের ওসি (তদন্ত) সহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে শ্রীনগর জমজম টাওয়ার এলাকায় কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু ও মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আব্দুল্লাহর অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে চার জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জমজম টাওয়ার এলাকা থেকে সরফত আলী সপুর পূর্ব নির্ধারিত আনন্দ মিছিলের কর্মসূচি ছিল। সকালে সেখানে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। এ সময় শেখ আব্দুল্লাহর কয়েকজন অনুসারী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বাগবিতণ্ডা হয়।

এক পর্যায়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে, এ সময় মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে দুই গ্রুপের কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) মিল্টন দত্ত আহত হন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতাল ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন।

এদিকে এ ঘটনা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) মিল্টন দত্ত আহতের তথ্য  নিশ্চিত করেছেন।

শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম মৃধা জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে সকাল ১০টার দিকে শ্রীনগরের জমজম টাওয়ারের সামনে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল। কর্মসূচি অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হন।

তিনি অভিযোগ করেন, এমপির অনুষ্ঠান ছিল বিকালে। কিন্তু এর আগেই যুবদল নেতা রনিসহ প্রায় ২০ জন এসে আমাদের কর্মসূচিতে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল বারেকের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার পারভেজ বলেন, দুটি পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনার খবর পেয়ে আমাদের থানা টিম দ্রুত রেসপন্স করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পরে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় ওসি তদন্ত চোখের নিচে কিছুটা আঘাত পেয়েছেন।