কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীর গাড়ি আটকে নববধূকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি ভিডিও। গতকাল সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই নববধূকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি কখন, কোথায় এবং কীভাবে ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে বসে কথা বলছেন ওই নববধূ। তার দুই পাশে কয়েকজন নারী বসা ছিলেন। একই কক্ষের দরজার কাছে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা এক যুবককেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
ভিডিওতে নববধূকে বলতে শোনা যায়, “আমি যেমনেই আইছি, জোর কইরা হোক, নিজের ইচ্ছায় হোক, যেমনেই হোক, আইছি তো আইছিই। এহন যদি যাইগাও, গেলেও তো আমার মান-সম্মান ফিরা আইতো না, আমার বাপ-মার মান-সম্মানও ফিরা আইতো না। গেইলেও কোনও লাভ নাই। আমি আইছি, এনেই থাকবাম।”
গত রবিবার কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় চর হাজিপুর গ্রামের মজিবুরের ছেলে আতিকুর রহমান মিয়াদকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি ছাত্রদলের কর্মী বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের ওই তরুণীর সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার এক যুবকের বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বর ও বরযাত্রীরা। হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে ২০-২৫ জন যুবক মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করেন। আতিকুর রহমান মিয়াদের নেতৃত্বে তারা গাড়িটি থামান। এরপর গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে নববধূকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর তাদের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। তাদের মধ্যে আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন। ঘটনার পর বরপক্ষ হোসেনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়।
তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..!’ এর মধ্যেই সোমবার রাতে নববধূর ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। তবে নববধূ বর্তমানে কোথায় আছেন এবং ভিডিওটি তিনি স্বেচ্ছায় করেছেন কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবকের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় এখনও মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে বরপক্ষ থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে।”
ওসি বলেন, “গতকাল রাতে মেয়েটি একটি ভিডিও বার্তায় নিজের মতামত জানিয়েছেন। বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। কেউ মামলা করলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”