আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড কারখানা চত্বরে সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যানে বিস্ফোরণে আট জনের প্রাণহানির ঘটনায় ছয় জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় অবহেলাজনিত হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই মামলায় আসামির তালিকায় কারখানার মালিকপক্ষের কাউকে রাখা হয়নি। আসামি করা হয়েছে কেবল বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়া থানার জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু তালেব বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
এজাহার থেকে জানা যায়, অপরিকল্পিতভাবে বিপজ্জনক অবস্থায় এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার অভিযোগ এনে ছয় জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন- প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইলের জিএম মো. সোহেল রানা, এজিএম মো. মহিউদ্দিন, ম্যানেজার মো. মোজাম্মেল হোসেন, কারখানার ইঞ্জিনিয়ার মো. রাজীব হোসেন এবং দুই হেলপার মো. আল আমিন ও মো. এনামুল। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইল গ্রুপের সিইও পদে রয়েছেন রাজীব আহমেদ তালুকদার পিয়াল। তিনি কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তার মা পারভীন তালুকদার প্রিটি গ্রুপের পরিচালক, যিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। কারখানার এমডি হিসেবে রয়েছেন রেজিন আহমেদ তালুকদার। তবে দায়ের করা এই মামলায় মালিকপক্ষের কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে জানতে প্রিটি গ্রুপের এমডি রেজিন আহমেদ তালুকদারের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘কোনও কারখানায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার কেবল বেতনভুক্ত সাধারণ কর্মচারীদের ওপর চাপানো যৌক্তিক নয়। যানবাহনের দুর্ঘটনা হলে যেমন মালিকের দায় আছে, তেমনি কারখানার অগ্নিকাণ্ড বা নিরাপত্তাজনিত গাফিলতির দায় মালিকপক্ষের ওপরও বর্তায়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে তাৎক্ষণিকভাবে যাদের সরাসরি দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে, আপাতত এজাহারে তাদের নামই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মালিকপক্ষের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও তথ্য নেই। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি রাখা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে, পরবর্তীতে তদন্তে যাদেরই গাফিলতি বা সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলবে, তাদেরই আইনের আওতায় আনা হবে।’
গত রবিবার রাতে আশুলিয়ার প্রিটি গ্রুপের প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড কারখানা চত্বরে গ্যাসভর্তি একটি কাভার্ডভ্যানে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আট জন নিহত হন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ জন।