দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, চাঁদাবাজি, মব সৃষ্টি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাভারের আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জাকির হোসেন মুন্সিকে সব পদ-পদবি ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি মোখলেছুর রহমান ইলিয়াস শাহী। তবে জাকির বলছেন, ইলিয়াস শাহী নিজেই বহিষ্কৃত হওয়ায় আমাকে অব্যাহতি দেওয়ার কোনও এখতিয়ার নেই তার।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকালে আশুলিয়ার ফকিরবাড়িতে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জাকিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে অব্যাহতির বিষয়টি জানান ইলিয়াস শাহী। লিখিত আদেশে দলীয় নাম ব্যবহার করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, পাইকারি বাজার, আড়ৎ, পরিবহন ও ফুটপাতে চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় জাকিরকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইলিয়াস শাহী বলেন, ‘শ্রীপুরের দারুল এহসান মাদ্রাসায় ভাঙচুরের ঘটনায় জাকিরের বিরুদ্ধে আগে তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। পরে আমার সুপারিশে জাকিরকে সুযোগ দেওয়া হলেও সংশোধন হননি। ৫ আগস্টের পর একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে। ছবেরআলী মার্কেট নিয়েও জাকিরের লোকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ আছে।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জাকির হোসেন মুন্সি বলেন, ‘মোখলেছুর রহমান ইলিয়াস শাহী নিজেই বহিষ্কৃত। তিনি আমাকে কীভাবে বহিষ্কার বা অব্যাহতি দেন? তার বহিষ্কার আদেশ এখনও প্রত্যাহার হয়নি। বরং তাকে বহিষ্কারের পর আমি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি।’
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. আসাদুল্লাহ আহমেদ দুলাল বলেন, ‘জাকিরকে আপাতত অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি সংশোধন হলে পরবর্তীতে বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।’
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় একটি মাদ্রাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় করা মামলায় ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. জাকির হোসেনের নাম উঠে আসে ও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ ঘটনার পর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দাবি করা মোখলেছুর রহমান ইলিয়াস শাহী এক নোটিশ জারি করে জাকিরকে অব্যাহতি দেন। এ ছাড়া বেশ কিছু ঘটনায় আলোচনায় আসে জাকির হোসেনের নাম। এর আগেও চাঁদা দাবির তিনটি অভিযোগ আছে।
অব্যাহতিপত্রের বিষয়ে ইলিয়াস শাহী বলেন, ‘মাদ্রাসায় হামলার ঘটনা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণেই জাকিরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
তবে নিজের বহিষ্কারের বিষয়টি অসত্য ও মিথ্যা দাবি করে ইলিয়াস শাহী বলেন, ‘আমি বহাল তবিয়তেই পদে আছি।’
এদিকে অব্যাহতির দাবি উড়িয়ে দিয়ে ভুক্তভোগী নেতা মো. জাকির হোসেন মুন্সী বলেন, ‘যিনি নিজেই দল থেকে বহিষ্কৃত তিনি কীভাবে আরেকজনকে পদ থেকে অব্যাহতি দেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি পক্ষ মনগড়া নোটিশ তৈরি করে অপপ্রচার চালাচ্ছে আমার বিরুদ্ধে।’
তবে বহিষ্কৃত নেতা কর্তৃক সিনিয়র সহসভাপতিকে অব্যাহতির ঘটনাকে পুরোপুরি বেআইনি ও অকার্যকর দাবি করেছেন আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল গফুর মিয়া।
তিনি বলেন, ‘ইলিয়াস শাহী নিজেই বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যক্তি। একজন বহিষ্কৃত নেতা দলের কাউকে অব্যাহতি দেওয়ার কোনও সাংগঠনিক ক্ষমতা বা এখতিয়ার রাখেন না। ফলে এই অব্যাহতির নোটিশ সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও উক্ত নির্দেশ কার্যকর হওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’