রাজবাড়ী সদরে পূর্ব শত্রুতার জেরে কলেজছাত্র ফুয়াদ চৌধুরী রোহান হত্যা মামলা গ্রেফতার তিন আসামির বাড়িতে আগুন দিয়েছে একদল লোক। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিস্থিতি শান্ত করেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর ও সমেসপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজের তিন দিন পর বৃহস্পতিবার বাড়ির অদূরে একটি মেহগনি বাগানের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রোহানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরীর করা মামলায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার (৩৪), গনি সরদারের ছেলে রিয়াজ সরদার (২৩) এবং নমেসপুর গ্রামের সিদ্দিক মণ্ডলের ছেলে মো. শরীফ (২৭)।
দুপুরে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানান, গত সোমবার বিকাল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয় ফুয়াদ চৌধুরী রোহান। সন্ধ্যায় বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে ফোন দিলে তার ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ির অদূরে একটি মেহগনি বাগানের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি লাশ স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
তিনি আরও জানান, জমিজমা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে গামছা ও টি শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে রোহানকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের জন্য পেট কেটে বালু ভরে বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেয়। হত্যাকাণ্ডের কাজে ব্যবহৃত চাকু, গামছা, টি শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় লোকজন। দুপুরে দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর ও সমেসপুর গ্রামের তিন আসামির বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন তারা। সেইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বিক্ষুব্ধ লোকজন। তবে এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আসামিদের বাড়িতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। ঘরের আসবাবপত্র আগুনে পুড়ছে। বাড়ির চারপাশে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা বিচারের দাবি করছে। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে। আর ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
নিহত রোহানের দাদা শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘তাদের সঙ্গে প্রতিবেশীদের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে রোহানকে হত্যা করা হয়। আজ দুপুরে স্থানীয় জনতা জড়ো হয়ে আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমরা রোহান হত্যার বিচার দাবি করছি। সঙ্গে আসামিদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।’
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফয়জুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এসেছে। আগুন বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করেছে।’
রাজবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’