বেপরোয়া গতিতে চলছিল অটোরিকশা, ধাওয়া করে ধরার পর জানা গেলো হত্যাকাণ্ডের কথা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে যাত্রী বেশে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে এক চালককে ছুরিকাঘাতের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। পরে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের চেকপোস্টে ধরা পড়েছে দুই যুবক। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। 

রবিবার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার রূপসী-বাগবাড়ি ব্রিজ এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরে তারাবো পৌর এলাকার সুলতানা কামাল সেতুতে পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশির সময় অটোরিকশাসহ দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। নিহত অটোরিকশাচালক রাজন মিয়া রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার রূপসী কাহিনা এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে দুই যুবক রূপসী অটোরিকশা স্ট্যান্ড থেকে রাজন মিয়ার অটোরিকশায় ওঠেন। পরে অটোরিকশাটি রূপসী-বাগবাড়ি ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে সেটি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য চালকের ওপর হামলা চালায় তারা। রাজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে। একপর্যায়ে গলা কেটে জখম করে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে লাশ দেখে স্থানীয়দের নজরে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তৎপরতা শুরু করে। 

রাতে তারাবো পৌর এলাকার সুলতানা কামাল সেতুতে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো ছিল। এ সময় একটি অটোরিকশা বেপরোয়া গতিতে চেকপোস্ট অতিক্রম করে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে পুলিশের সন্দেহ হলে অটোরিকশাটিকে ধাওয়া করা হয়। পরে পুলিশ অটোরিকশাসহ দুই যুবককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতার দুই যুবক হলো—ফয়সাল মিয়া ও জামাল মিয়া। ফয়সাল রূপগঞ্জের চনপাড়া এলাকার রাজা মিয়ার ছেলে। জামাল নোয়াখালী সদর উপজেলার করিমপুর এলাকার আব্দুল কাদির মিয়ার ছেলে। 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাদের গ্রেফতারের সময় ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। তবে হত্যাকাণ্ডে তাদের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে, চালক রাজন মিয়া হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাতে যাত্রী পরিবহনের সময় চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যাত্রী বেশে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালকের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় চালকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, ‘চালকের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে গ্রেফতার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা এবং অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।’