নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সাহেব আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করা হত্যা করা হয়েছে। তাকে ‘সন্ত্রাসী’ ও অন্তত ১০টি মামলার আসামি বলে দাবি করেছে পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়াপদা কলোনি এলাকার ইত্তেহাদ টাওয়ারের সামনে তাকে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত পৌনে ৮টার দিকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি-সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তপনাসহ অন্তত ১০টির বেশি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত সাহেব আলী সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়াপদা কলোনি এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘সন্ধ্যায় নিজ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে “অন্তঃকোন্দলের” জেরে গোলাগুলি হয়। এ সময় সাহেব আলী গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তার পাশের ড্রেনে পড়ে যান। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।’
তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘হত্যা, সন্ত্রাসী, ডাকাতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাহেব আলীর বিরুদ্ধে ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। গত বছরও তিনি গ্রেফতার হন। পরে জামিনে মুক্তি পান।’
এদিকে তাকে গুলি করার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন যুবক মিলে খুব কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে সাহেব আলীকে গুলি করছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সড়কের পাশের ডোবায় পড়ে যায়। সেখানে তাকে পুনরায় গুলি করা হয়। একপর্যায়ে অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারে। তা দেখে আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে পালিয়ে যায় অস্ত্রধারীরা।
দুজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সাহেব আলীর ওপর গুলি বর্ষণের ঘটনায় রনি ও আসলাম নামে দুই যুবক জড়িত। গুলির আগে তার সঙ্গে ওই দুই যুবকের বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় সাহেব আলী ক্ষুব্ধ অবস্থায় ছিলেন। একপর্যায়ে রনি তাকে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে। পরে সাহেব আলী পাশের ডোবায় পড়ে গেলে সেখানে আরও দুটি গুলি করা হয়। এরপরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।