বন্ধুকে হত্যার পর নদীতে লাশ গুম, পাঁচ মাস পর মিললো খুলি-পাঁজরসহ ৭৭ হাড়

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে নিখোঁজের পাঁচ মাস পর নরসুন্দা নদী থেকে সালমান (২১) নামের এক যুবকের কঙ্কালের ৭৭টি হাড় উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, ড্যান্ডি সেবনের সময় কথা-কাটাকাটির জেরে বন্ধুদের মারধরে নিহত হন সালমান। পরে মরদেহ গুম করতে নদীতে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

নিহত সালমান হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের কুড়িমারা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে সাকিব (১৮) ও মাফি (১৫), মৃত মোতালেবের ছেলে রফিক (৪০) এবং শামছুদ্দিনের ছেলে রমজান মিয়া (৩৫)।

পুলিশ জানায়, গত ১৮ মে সন্ধ্যায় ইলিম্যান বাজারের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন সালমান। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন হোসেনপুর থানায় জিডি করেন।

জিডির তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, প্রযুক্তির সহায়তায় সালমান ও তার বন্ধুদের মুঠোফোনে কথোপকথন এবং গতিবিধি বিশ্লেষণ করে ঘটনায় ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

দীর্ঘ পাঁচ মাসেও ছেলের সন্ধান না পেয়ে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) হোসেনপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন সালমানের বাবা ফজলুর রহমান। এরপর ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল পাকুন্দিয়ার বিশ্বনাথপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে।

এসপি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ড্যান্ডি সেবনের সময় সালমানের সঙ্গে তার সহযোগীদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সালমান বাঁশ দিয়ে মাফিকে আঘাত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অন্যরা তার কাছ থেকে বাঁশ কেড়ে নিয়ে সালমানকে পিটিয়ে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশে নরসুন্দা নদীতে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের হাতিমের স্কুলের পাশের নরসুন্দা নদী থেকে সালমানের কঙ্কালের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা অংশের মধ্যে মাথার খুলি ও বুকের পাঁজরসহ মোট ৭৭টি হাড় এবং তার ব্যবহৃত একটি গেঞ্জি ছিলো।

পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে গেঞ্জি দেখে কঙ্কালটি সালমানের বলে শনাক্ত করেন তার মা সালমা। উদ্ধার করা হাড়ের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এএসপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মুকিত সরকার এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি বাহার মিয়া উপস্থিত ছিলেন।