মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, শিক্ষকের স্ত্রী গ্রেফতার

সাভার প্রতিনিধি

ঢাকার সাভারে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার মালিক ও প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ধর্ষণে সহযোগিতা ও শিশুটিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলার পর থেকে পলাতক রয়েছেন প্রধান শিক্ষক।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের তোহফাতুল জান্না মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশুটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে অন্য ছাত্রীদের সঙ্গে থাকত। পাশের আরেকটি ফ্ল্যাটে থাকতেন মাদ্রাসার মালিক ও প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারী (৫০) এবং তার স্ত্রী মোছা. তোহফা (৪০)।

এজাহারে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ১০টার দিকে নিচতলায় জুতা আনতে গেলে আব্দুল বারী শিশুটিকে জোর করে মাদ্রাসার অফিসকক্ষের পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যান। শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে তিনি তার মুখ চেপে ধরেন এবং একপর্যায়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে সেখানে আসেন শিক্ষকের স্ত্রী তোহফা। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেন। কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় আব্দুল বারীও বিষয়টি কাউকে জানালে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় মাদ্রাসার বাবুর্চি তানজিলা (২৭) সেখানে উপস্থিত হলে আব্দুল বারী তার স্ত্রীকে নিয়ে দ্বিতীয় তলায় চলে যান। পরে শিশুটি মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার কথা জানায়।

পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানার পর স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসায় যান এবং তোহফাকে আটক করেন। তবে এর আগেই আব্দুল বারী পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটির দাদা বাদী হয়ে বুধবার দিবাগত রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। মামলায় মাদ্রাসার মালিক ও তার স্ত্রীকে আসামি করা হয়েছে। শিক্ষকের স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শারীরিক পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।