৯ দিনে গাজীপুরে তিন আগুনের ঘটনা, দগ্ধ ১২  

গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় গত ৯ দিনে গ্যাস লিকেজ ও বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ৩টি পৃথক ঘটনায় শিশুসহ ১২ জন দগ্ধ হয়েছেন। সবাই বর্তমানে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন। হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

গত ২১ অক্টোবর সকাল ৬টার দিকে টঙ্গীর চেরাগ আলী মার্কেট এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিন জন সদস্য অগ্নিদগ্ধ হন। তাদের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিন জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় একই পরিবারের তিন জন গুরুতর দগ্ধ হন। তাদের শরীরের ৮৫ থেকে ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে হাসপাতালের তথ্যে জানানো হয়েছে। তাদের দুই জনকে জরুরি বিভাগ এবং একজনকে এফএইচডিইউ-তে রাখা হয়েছে। 

এরপর গত ২৩ অক্টোবর গাজীপুরে একটি বাসায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের চার জন দগ্ধ হয়ে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আসেন। 

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সে দিন ভোরে বাসার একটি সোফায় আগুন দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে আগুন কাঠের তৈরি সিলিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বারান্দায় রাখা দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে যায়। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত উৎস ও কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দগ্ধ চার জনকে প্রথমে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

বর্তমানে চার জনের মধ্যে দুজন (মা ও বড় ছেলে) বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছেন এবং অপর দুজন (বাবা ও ছোট ছেলে) পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ ও ৫ বছর বয়সী দুই শিশু রয়েছে। একজনের ৪০ শতাংশ ফ্লেম বার্ন থাকায় ভর্তি করা হয়েছে, বাকি দুই শিশুর দগ্ধের পরিমাণ ২ ও ১২ শতাংশ।

আজ (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুরের সারদাগং এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্য দগ্ধ হন। দুপুর ২টার দিকে তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়। দগ্ধ পাঁচ জনের মধ্যে পরিবারের কর্তা ৪০ বছর বয়সী রিয়াজুল শেখের শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

অন্যদিকে, আরিফা বেগম নামে একজনের শরীরের ৫ শতাংশ, ১৭ বছর বয়সী ফারিয়ার ৮ শতাংশ, ১৮ বছর বয়সী রোজিনার ১ শতাংশের কম এবং এক বছর বয়সী শিশু মো. রহিমের শরীরের ১ শতাংশের কম পুড়ে গেছে। ঘটনায় দগ্ধ সবাইকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে।