গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বহিরাগত ব্যক্তিদের তৎপরতা ঠেকাতে কালিয়াকৈরে বাড়ি এবং ফ্ল্যাটের মালিকদের সতর্ক করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। ভাড়াটিয়াদের বাসায় পরিবারের সদস্যদের বাইরে কোনও বহিরাগত ব্যক্তি কিংবা অপরাধ চক্রের সদস্য অবস্থান করলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
সোমবার (০২ নভেম্বর) কালিয়াকৈর পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাড়ি বা ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া নিজ পরিবারের সদস্যদের বাইরে অন্য কোনও বহিরাগত ব্যক্তিকে আশ্রয় দিয়ে থাকলে অথবা কোনও বহিরাগত অপরাধ চক্রের সদস্য বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করলে দ্রুত কালিয়াকৈর থানা কিংবা উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে। এ বিষয়ে বাড়ির মালিকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হলো। তবে বিষয়টি প্রশাসনকে না জানানো হলে এবং এ কারণে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে, তার দায় সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিকদের ওপর বর্তাবে।
এ বিষয়ে ইউএনও এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, ‘শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে বহিরাগত ব্যক্তিরা যেন প্রবেশ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য এই গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
গত কয়েক দিন ধরে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাক এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব বেশি পড়েছে। এ সময় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈরের সফিপুর পল্লী বিদ্যুৎ এবং চন্দ্রা মোড় এলাকায় হাজার হাজার শ্রমিক জড়ো হতে শুরু করেন। নির্ধারিত কোনও পূর্বঘোষণা ছাড়াই তারা সড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই অর্থনৈতিক করিডোরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দূরপাল্লার যানবাহনগুলো দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। শ্রমিকদের এই আকস্মিক সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে থাকে এবং শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।