অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান

আগে পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে তারা, এখন টার্গেট করে হামলা করছে

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান। 

তিনি বলেছেন, ‘আন্দোলনের নামে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। এতে শ্রমিক আন্দোলন আর স্বাভাবিক পর্যায়ে নেই; বরং তা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে রূপ নিয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

তাহেরুল হক চৌহান বলেন, ‘যারা আগে ফ্যাসিস্ট শক্তি ছিল, তারা অতীতেও পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। জনগণকে বড় ধরনের সমস্যায় ফেলেছে এবং পুলিশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সেই শক্তি আবার মাঠে নেমে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করছে। গত কয়েক দিনে পুলিশের যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্যদের আহত করা হয়েছে। এটা কোনও স্বাভাবিক আন্দোলন নয়।’

তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। তবে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলা কোনোভাবেই স্বাভাবিক আন্দোলনের অংশ হতে পারে না। আন্দোলনের আড়ালে বিভিন্ন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে জনশৃঙ্খলা নষ্ট, পুলিশের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং মানুষের জানমালের ক্ষতি করে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে।’

শ্রমিকদের আন্দোলনের সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের লাঠি হাতে পুলিশের সঙ্গে দেখা যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘একসময় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলা করতে দেখা যেতো। তবে বর্তমানে বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশের সঙ্গে থেকে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করতে দেখা যাচ্ছে।’

শ্রমিকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন চলাকালে শ্রমিকরা একদিকে নিজেদের কর্মস্থল কারখানা ভাঙচুর করছেন, অন্যদিকে পুলিশের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। অথচ পুলিশ কারখানার কোনও পক্ষ নয়।’ পুলিশের ওপর হামলা করে তারা কী অর্জন করতে চান, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনজীবন বিপর্যস্ত করে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

পুলিশের দায়িত্ব সম্পর্কে তাহেরুল হক চৌহান বলেন, ‘পুলিশ একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী। রাষ্ট্রের জানমাল রক্ষা এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকারি দলের নেতাকর্মী কিংবা অন্য কেউ গুন্ডামি করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে পুলিশ তা কখনোই উৎসাহিত করে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।’

এদিকে টানা কয়েক দিন শ্রমিকদের আন্দোলনের পর গাজীপুরে অধিকাংশ পোশাক কারখানা খুলেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। কারখানাগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজ চলেছে। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।