টর্নেডোতে জীবননগরের চার গ্রাম লণ্ডভণ্ড, আহত ৩০

Jibannagar. (1)চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে টর্নেডোর আঘাতে এবং শিলাবৃষ্টিতে চারটি গ্রাম একেবারে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এতে ঘরের চালা ভেঙে ও দেওয়াল চাপা পড়ে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. আ. লতিফ অমল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূরুল হাফিজ, কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্সহ সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছেন।

শনিবার রাত ৮টার দিকে জীবননগর উপজেলার হাসাদহ, বৈদ্যনাথপুর, পুরন্দপুর ও বকুণ্ডিয়া গ্রামে শক্তিশালী টর্নেডো প্রচণ্ড বেগে আঘাত হানে এবং একইসঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়। আধা ঘণ্টাব্যাপী এই টর্নেডোতে চার গ্রামের পাঁচ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে একেবারে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। সহস্রাধিক আধা-পাকা ঘরবাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে গেছে এবং বাড়িঘরগুলো বিধ্বস্ত হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদের টিনের চালা উড়ে গেছে। বড় বড় গাছ উপড়ে গেছে। শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় এবং সঞ্চালন লাইনের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ঘরের চালা ভেঙে ও দেওয়াল চাপা পড়ে হাসাদাহ গ্রামের ফিরোজ আলী, নূর ইসলাম গোপাল, আব্দুল মোমিন, মাধপপুরের ফজিলাতুন্নেছাসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

Jibannagar. (11)উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সব মিলিয়ে আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পাঁচ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এদিকে, টর্নেডোর আঘাতে বাস্তুহারা অসহায় পরিবারের সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

টর্নেডোর আঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হাসাদাহ গ্রামের জসিম উদ্দীন জালাল জানান, ঝড়ের তাণ্ডবে খেতের পাটের মাথা ও বরবটির মাচা ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। তার দুই বিঘা জমির কলাগাছ ভেঙে গেছে।

কাটাপোল গ্রামের হাবিবুর রহমান জানান, শনিবার রাতে টর্নেডোতে চার গ্রামের প্রতিটি পরিবারই কোনও না কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে খেতের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক ও বর্গা চাষিরা।

উপজেলা বিদ্যুৎ অফিসের জুনিয়র প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎলাইন মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দুদিন সময় লাগবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূরুল হাফিজ জানান, ক্ষতগ্রস্ত বাড়ির মালিক ও কৃষকদের সরকারিভাবে সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।

 আরও পড়ুন:

একমুঠো ভাতের জন্য আদালতে মা

/বিটি/এএইচ/