জানা গেছে, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার সময় উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা মিজু উপাচার্য ড. হাকিমকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন,‘আমি ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেবো। কারণ আমি আপনাকে ওই কর্মকর্তাদের (উপ-উপাচার্যপন্থী) বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে বলেছি কিন্তু আপনি শোনেননি। আমি দেখে নেবো কিভাবে ক্যাম্পাস চলে।’
হুমকির বিষয়টি স্বীকার করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন, ‘ছাত্রলীগ একটি আদর্শের সংগঠন। বঙ্গবন্ধু এই আদর্শের নেতা। এ সংগঠনের কোনও নেতা এমন আক্রমণ করে কর্কশ ভাষায় কথা বলতে পারে না। তাছাড়া কর্মকর্তাদের বিষয় নিয়ে কোনও ছাত্র বা ছাত্রনেতার কথা বলাও শোভা পায় না। তারপরেও বলছি, কর্মকর্তাদের বিষয়টি সমাধান করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু, দু’পক্ষের সমঝোতা ছাড়া তা করা সম্ভব নয়।’
জানা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্যপন্থীদের বিভাজন স্পষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী তো বটেই শাসক দলের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারাও স্পষ্টভাবে এই দুই গ্রুপে বিভক্ত। এ কারণে অনেকদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চলছে না।প্রশাসনিক কার্যক্রমও একই কারণে ব্যহত হচ্ছে।এরই জের ধরে গত ৩ মে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যপন্থী কর্মকর্তাদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষ বাধে।এতে মোর্শেদ নামে উপাচার্যপন্থী এক কর্মকর্তা প্রতিপক্ষের মারধরে শিকার হন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আলমগীর হোসেন খান ও আবদুল হান্নান নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন উপাচার্য ড. আবদুল হাকিম। এই দুই কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হওয়ায় তাদের পক্ষ নেয় উপ-উপাচার্যপন্থী ছাত্রলীগ নেতারাও।
আরও পড়ুন: ‘উই আর নিজামী’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাদেরই হয়ে বুধবার দুপুরে সাফাই গাইতে এসে উপাচার্যকে এ হুমকি দেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিজু।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা মিজু উপাচার্যকে হুমকি দেওয়ার কথা সরাসরি অস্বীকার করেন। তবে এদিন দুপুরে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে কিছু উচ্চবাচ্য হয়েছে তা স্বীকার করে তিনি জানান,‘ আমি সব সময় চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত থাকুক। কিন্তু এখন ক্যাম্পাসে অশান্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দুই পক্ষে ডিভিশনের সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থা দূর করার জন্য উপাচার্যকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করতেই সেখানে গিয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করার জন্যও তার কাছে দাবি রেখেছি।এসব কথা বলতে গিয়ে কিছুটা উচ্চবাচ্য হয়েছে।তবে ভিসি স্যারকে কোনও থ্রেট (হুমকি) দেইনি। যদি হুমকি দিতাম তাহলে সেখানে মাত্র একজন ছোটভাইকে সঙ্গে নিয়ে যেতাম না, দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে যেতাম।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, তারা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে হাসিলের জন্য ভিসি স্যারের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। এর জন্য ছাত্রলীগ কোনওরকম দায়ভার নিবে না। তবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতিকে বিষয়টি জানিয়েছি।
আরও পড়ুন: এসএসসি’র ফল প্রকাশ, পাসের হার ৮৮.২৯ শতাংশ
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী ও প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরাম পৃথক পৃথক বিবৃতি দিয়েছেন।
/জেবি/টিএন/আপ-এআর/