শ্রমিক নেতাকে বরখাস্ত করায় ক্রিসেন্ট জুট মিলে কর্মবিরতি

খুলনারাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ক্রিসেন্ট জুট মিল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেনকে বরখাস্ত করার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে খুলনা ও যশোরের পাটকল শ্রমিকরা।
এর প্রতিবাদে ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে উৎপাদন বন্ধ রেখে কর্মবিরতিসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি অব্যহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে পরিস্থিতি নিয়ে খুলনা ও যশোরের সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলের সিবিএ নেতারা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ক্রিসেন্টে কর্মবিরতির পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ব অন্য ৬টি মিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য গেটসভা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বৈঠক থেকে সোহরাব হোসেনের বাধ্যতামূলক অবসান আদেশ প্রত্যাহারের জন্য ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলো একযোগে কঠোর আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।

ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব ইস্টার্ন জুট মিলের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে ক্রিসেন্ট জুট মিল ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন কার্যালয়ে এই জরুরি বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল দশটায় শুরু হয়ে বেলা আড়াইটার দিকে বৈঠক শেষ হয়। বৈঠকে ক্রিসেন্টের সভাপতি মো. দ্বীন ইসলাম, প্লাটিনামের সভাপতি মো. কওসার আলী মৃধা, স্টারের সভাপতি মো. বিল্লাল হোসেন মল্লিক, ইস্টার্নের সভাপতি মো. আলা উদ্দিন আলিম, মো. আব্দুস সালাম, জেজেআইর সভাপতি মো. হাসান উল্লাহ ও কার্পেটিংয়ের সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম, প্লাটিনামের সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান, স্টারের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান, আলিমের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রশদি, জেজেআইর সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ মল্লিক, কার্পেটিংয়ের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল ওহাব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার রাতে মিল কর্তৃপক্ষ এক ঘোষণায় সোহরাব হোসেনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত (টার্মিনেট) করে। সোহবার হোসেনকে বরখাস্ত করার ঘোষণার পর বুধবার রাতেই শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং মিলের প্রশাসনিক ভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। মিল এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। দশটায় রাষ্ট্রায়ত্ব সাত পাটকলের শ্রমিক নেতারা এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে বৈঠকে বসছে। ক্রিসেন্ট জুট মিল ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন কার্যালয়ে এ বৈঠকের বিষয়টি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির তৈয়্যেমুর ইলি জানান, শ্রমিক নেতা সোহরাবকে টার্মিনেট ঘোষণার পর রাতেই শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা মিলের অভ্যন্তরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। রাতে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। তবে, ভোর থেকে শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ রেখে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ফলে মিলের ভেতরে প্রশাসনের লোকজন প্রবেশ করতে পারছে না। দুপরে শ্রমিক নেতাদের বৈঠকের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে, মিলের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

আরও পড়ুন: এভাবে খেললে বিশ্বের সেরা দল হয়েও জিততে পারবো না: তামিম

শ্রমিক নেতা সোহরাব হোসেন বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার্থে আন্দোলন করা ও আপোসহীনভাবে স্বচ্ছতার সাথে নেতৃত্ব দেয়ার কারণেই তাকে টার্মিনেট করা হয়েছে। মিল কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় টার্মিনেট করার কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সভাপতি দ্বীন ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ/নন সিবিএ এবং খুলনা ও যশোরের রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল শ্রমিক নেতাদের নিয়ে পৃথকভাবে বৈঠক হয়েছে। বৈঠক থেকে থেকে সাতদিনের সময় দিয়ে সোহরাব হোসেনের বাধ্যতামূলক অবসান আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। সকল মিলের উৎপাদন বন্ধ রাখার ঘোষণা আসতে পারে।

আরও পড়ুন: মঠবাড়িয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা



/জেবি/টিএন/আপ-এআর/