দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখা দিলেই কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সে উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র ও ফন্দিফিকির করে থাকে। বর্তমান সরকারের নৌমন্ত্রী এ অঞ্চলেরই। ফলে মংলা বন্দরসহ এ অঞ্চলে উন্নয়নের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। আগে নৌমন্ত্রীরা ছিলেন অন্য অঞ্চলের। সে সময়ে এ অঞ্চলের উন্নয়নে তেমন কোনও কার্যক্রম ছিল না। ফলে মংলা বন্দরও ছিল স্থবির। বর্তমানে মংলা বন্দরসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলকে গতিশীল করার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে অন্য অঞ্চলের প্রভাবশালীরা তৎপর রয়েছেন। এই গোষ্ঠীই রামপালে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে স্থাপনের বিরোধিতা করছে। মংলা বন্দরকে স্থবির করতে নানা ষড়যন্ত্র করছে।
মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মংলা ব্যবহারকারী সমন্বয় কমিটির মহাসচিব মো. সাইফুল ইসলাম এসব কথা বলেন। খুলনা নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপ ও মংলা বন্দর ব্যবহারকারীদের পক্ষ থেকে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নানা ষড়যন্ত্রের পরও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রতি আন্তরিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মংলা থেকে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত পশুর চ্যানেলের ২০ কিলোমিটার এলাকা ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত ১০ মে একনেক বৈঠকে ১৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পশুর চ্যানেল ক্যাপিটাল ড্রেজিং এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মংলা বন্দর গতিশীলতায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। বাংলাদেশ এবং ভারতের যৌথ উদ্যোগে রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে খুলনাসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। মংলা বন্দর ব্যবহারকারীরা নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদনে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হলে মংলা বন্দর দিয়ে প্রতি মাসে ১.৫০ থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি হবে এবং পরবর্তীতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ৫০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হলে ৪ থেকে ৫ লাখ মেট্রিক টন কয়লা মংলা বন্দর দিয়ে আমদানি হবে। মংলা থেকে রামপাল পশুর চ্যানেলটি ক্যাপিটাল ড্রেজিং হলে এ রুট দিয়ে নৌযানে অতি অল্প খরচে কয়লা পরিবহন করা সম্ভব হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল অর্থনৈতিক সম্মৃদ্ধিশালী হবে। শ্রমিক ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণির মানুষ লাভবান হবে এবং শ্রমিকের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখবে। মংলা বন্দরের প্রাণচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের লক্ষ্যে নির্মিতব্য তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ করার লক্ষ্যে পরিবেশের অজুহাত তুলে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নে অন্তরায় সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে। বর্তমান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সুন্দরবন থেকে প্রায় ২০ কি.মি. দূরত্বে স্থাপন করা হচ্ছে। যেখানে জীব বৈচিত্র্যের ন্যূনতম ক্ষতি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা কখনোই নেই। তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিমনির উচ্চতা হবে ১ হাজার ফুট। সুতরাং বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত ধোঁয়ায় আশে-পাশে পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। এছাড়া পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নিয়েই প্রকল্পটির কাজ শুরু করা হয়েছে। রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত বর্জ্যের পানি রিফাইনিং করে ড্রিস্ট্রিল ওয়াটার তৈরি করা হবে। ফলে তা পরিবেশের ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে না। এছাড়াও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা ব্যবহারের পর যে ছাই বের হবে তা সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এই ছাই ভারতের বজবজ বন্দর থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে আমদানি করে বিভিন্ন সিমেন্ট মিল সচল রয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পাওয়া ছাই ব্যবহার করলে অর্থনৈতিকভাবে অনেক সাশ্রয় হবে। ফলে সিমেন্টের মূল্য অনেকটা হ্রাস পাওয়ারও সম্ভাবনা থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়াহিদুজ্জামান খান পল্টু, মো. আব্দুল গফফার, মো. খুরশিদ আলম কাগজি, এম,এম,আসাদুজ্জামান, কাজী গোলাম ফারুক, মো. নুরুল ইসলাম খান কালু, মো. মনিরুজ্জামান খান বাবু, মো. ফারুক আহাম্মেদ খান, মো. জহির হোসেন, অসীম কুমার সোম, এম,এম,আজাহার আলী প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দিনাজপুরের বড় পুকুরিয়ায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। ভারতের কোনাঘাটসহ মালয়েশিয়ার গভীর অরণ্যে ৬টি, ইন্দোনেশিয়ার গভীর অরণ্যে ২২টি কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে এবং আরও ১৫টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন আছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৯৫২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৬টি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু আছে। ওই সব দেশে পরিবেশ নষ্টের কোনও কথা উঠছে না।
ভারতের সুন্দরবনের কাছাকাছি একটি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে পরিবেশের ওপর কোনও প্রভাব পড়ছে না। কলকাতা শহরের খুব কাছাকাছি বজবজ শহরে একাধিক কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। সেখানেও পরিবেশের ওপর কোনও প্রভাব পড়ছে না। কারণ, সব তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিবেশবান্ধব করেই স্থাপন করা হয়েছে। রামপাল অঞ্চলে এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকার সমস্যা দূর হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়। এর সঙ্গে বিভিন্ন উপকরণ আমদানির মাধ্যমে মংলা বন্দর আন্তর্জাতিক বন্দর হিসেবে পূর্ণতা পাবে।
ওয়ার্ল্ড কোল অর্গানাইজেশনের সমীক্ষা অনুযায়ী বর্তমানে বিভিন্ন রকমের প্রযুক্তির উদ্ভব হয়েছে। যার দ্বারা পরিবেশ ক্ষতিকারক উপাদান যেমন পলিউশন, এসিড রেইন, ছাই আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব এবং ৯৯.৯৫% ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা সম্ভব। কারণ সমস্ত কয়লাই বিশেষ ব্যবস্থাপনায় আমদানি হবে এবং জাহাজ থেকে সরাসরি লাইটারেজ এবং সেখান থেকে কনভেয়ারের মাধ্যমে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে চুল্লিতে নেওয়া হবে।
/টিএন/
আরও পড়তে পারেন: