খুলনায় চার মাসে ১৯টি ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন ৯৩টি

চলতি বছরের প্রথম ৪ মাসে (জানুয়ারি থেকে এপ্রিল) খুলনা মহানগর ও জেলায়  ৯৩টি নারী ও শিশু নির্যাতন ও ১৯ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পরিমাণও বেড়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

রবিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায়ও এ প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া সভায় রমজানে বাজারের পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে ৫টি খুন, ৪টি ধর্ষণ, ২৪ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার, ফেব্রুয়ারিতে ৬টি খুন, ২টি ধর্ষণ, ১৬ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার; মার্চে ৩টি খুন, ৫টি ধর্ষণ, ২৬ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার এবং এপ্রিলে ৩টি খুন, ৮টি ধর্ষণ, ২৭ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর আগে জেলার ৯ উপজেলায় ফেব্রুয়ারিতে ১১০টি, মার্চে ১১৯টি এবং মহানগরী এলাকায় ফেব্রুয়ারিতে ১১৪টি ও মার্চে ১৪৬টি মামলা রেকর্ড করা হয়।

সভায় রূপসা উপজেলার ঘাটঘোট ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক, রমজানে বাজার মনিটরিং, টিসিবির উদ্যোগে ট্রাকে পণ্য বিক্রি, নির্ধারিত রুটে ইজিবাইক চলাচল নিশ্চিত করা, বাইরের ইজিবাইক নগরে প্রবেশ করতে না দেওয়ার বিষয়ে কেএমপির সহযোগিতা এবং থ্রি হুইলারে অতিরিক্ত যাত্রী না বসাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক শেখ হারুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, বিভিন্ন উপজেলা চেয়ারম্যান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ কমিটির অন্য সদস্যরা অংশ নেন।

প্রতিবেদনে আরও  জানানো হয়, মহানগরীর আটটি থানায় এপ্রিল মাসে মোট ১৪৫টি ও মার্চে ১৪৬টি এবং জেলার নয়টি থানায় এপ্রিলে ১২৬টি ও মার্চে ১১৯টি মামলা হয়েছে।

সভায় সূত্রে জানা যায়, সভায়  জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট নাজমুল আহসান মামলার তদন্ত কাজ দ্রুত শেষ করার পরামর্শ দেন। আর জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ মহানগরীর অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ ও মাদকের অপব্যবহার রোধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স ম বাবর আলী বলেন, তিনি প্রশাসনকে চাঁদখালি এলাকায় ইট ভাটার মালিকানা নিয়ে বিরোধ মেটানোর পরামর্শ দিয়েছেন। আর ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেন শহরে মাদকের ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: ‘পানিতে ভেসে গেছে’ সঞ্চালন লাইনের ৫৬ কোটি টাকা

/এসএনএইচ/টিএন/