বনদস্যু মাস্টার বাহিনীর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ

স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে সব সহায়তা দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বনদস্যু মাস্টার বাহিনীর আত্মসমর্পণবাগেরহাটের মংলায় সুন্দরবনের বনদস্যু ‘মাস্টার বাহিনী’ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। মঙ্গলবার বিকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের উপস্থিতিতে অস্ত্র সমর্পণের মাধ্যমে এ বাহিনীর প্রধানসহ ১০ বনদস্যু আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তারা ৫২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫ হাজার রাউন্ডেরও বেশি গুলি জমা দেন। বনদস্যুরা আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইলে তাদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।  

এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বনদস্যুরা সমাজের ক্ষতিকর মানুষ হিসেবে রূপ নিয়েছে। এই উপলব্ধি থেকে তারা আজ  আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে যে কাজ শুরু করেছেন সে কাজের জন্য আমরা তাদের সব ধরনের আইনি সহযোগিতা দিয়ে যাবো।

মঙ্গলবার আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন- মাস্টার বাহিনীর প্রধান মোস্তফা শেখ ওরফে মজিদ ওরফে কাদের মাস্টার (৪৭), সেকেন্ড ইন কমান্ড সোহাগ আকন (৩৭), ফজলু শেখ (৩৫), সোলায়মান শেখ (২৮), মো. শাহিন শেখ (২৮), মো. হারুন (২৪), মো. আরিফ সরদার (২২), মো. আসাদুল ইসলাম কোকিল (২৭), সুমন সরকার (৩৪) ও মো. সুলতান খান (৫৮)।

এর মধ্যে মাস্টার বাহিনীর প্রধান মোস্তফা বাগেরহাটের মংলা উপজেলার মিঠাখালী গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে। তার বাবা একজন মাছ ব্যবসায়ী। তবে তিনি রামপাল উপজেলার কাটাখালী গ্রামে মামার বাড়িতেই বেড়ে উঠেছেন। তার ছোট ভাই কামরুল দুই বছর আগে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। অন্যদের বাড়ি বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলায়।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালী, মৎস্যজীবী,বনজীবীরা যাতে সুন্দরভাবে কাজকর্ম পরিচালনা করতে পারে সেজন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য কোস্টগার্ড, র‌্যাব, নৌপুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কোস্টগার্ড উপকূলীয় এলাকায় যাতে নির্বিঘ্নে টহল দিতে পারে সেজন্য বিদেশ থেকে ৪টি জাহাজ আনা হয়েছে।

এ সময় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (গোয়েন্দ) কর্নেল আনোয়ার হোসেন, খুলনা রেঞ্জের পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান, র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফরিদুল আলম, র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক মো. রফিকুল ইসলাম, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্যাসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২৯ মে তাদের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের সব প্রস্তুতি শেষ হলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসতে না পারায় তা স্থগিত করা হয়।

সুন্দরবনে জেলেদের ত্রাস ছিল মাস্টার বাহিনী। নৌকা ও জেলেদের জিম্মি করে বড় অঙ্কের টাকা মুক্তিপণ দাবি করতো এই মাস্টার বাহিনী।

আরও পড়ুন- 
ইউপি নির্বাচন দলীয় হওয়ায় এতো প্রাণহানি

ফেসবুকে লাইক দিয়ে বরখাস্ত হলেন শিক্ষক

/বিটি/এফএস/