পেট্রোল পাম্পের তেল চুরির টাকা ভাগাভাগি আর গাঁজা সেবনে বাধা দেওয়ার কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন সিরাজুল। এছাড়া নিহত কলেজ ছাত্র অপু পরিস্থিতির শিকার বলে দাবি করেছেন তিনি।
সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বিল্লাল হোসেন বলেন, আটক সিরাজুল জোড়া খুনের দায় স্বীকার করেছেন।তিনি বলেন, সিরাজুল পুলিশকে জানিয়েছে ফিলিং স্টেশনের তেল চুরির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ম্যানেজার ওবায়দুরের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব ছিল। প্রতিদিন তেল চুরি করতেন সিরাজুল। দিন শেষে চুরি করা তেল বিক্রির টাকার ৮০ ভাগ ম্যানেজার নিয়ে নিতেন। তাকে দেওয়া হতো ২০ ভাগ।
এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল সিরাজুল। এছাড়া তার সঙ্গী ইকবাল, নয়ন ও নাসির ফিলিং স্টেশনে বসে গাঁজা সেবন করতো। এতে ম্যানেজার বাধা দিতো। এ নিয়ে ওই তিনজনও চরম ক্ষুব্ধ ছিল ওবায়দুরের ওপর।
পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা চারজন মিলে রবিবার রাতে ওবায়দুর ও অপুকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বিল্লাল হোসেন আরও জানান, ঘটনাস্থলের পাশের একটি ডোবা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে।
ইকবাল, নাসির ও নয়নকে আটকে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত রবিবার রাতে বাঘারপাড়ার আব্দুল বারী ফিলিং স্টেশনের একটি কক্ষে ফিলিং স্টেশনের ওবায়দুর রহমান (৩২), কলেজছাত্র লিজন আহমেদ অপুর (২৩) ও কর্মচারী সিরাজুল (২৫) ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে অপুকে ডাকতে গিয়ে তার বাবা সদরউল্লাহ খান রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দেন। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করা হয়। দুইজনের মাথায় অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার পর সিরাজুল পালিয়ে যান।
আরও পড়ুন: মৃত্যু পরোয়ানা শুনে স্বাভাবিক মীর কাসেম আলী
/এআর/টিএন/