যশোরের বাঘারপাড়ায় আবু ইছা (৪৫) নামে সাবেক এক ইউপি মেম্বারকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পুলিশ তার পায়ে গুলি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতের স্ত্রী আফরোজা বেগমের দাবি, শুক্রবার রাত ২টার দিকে পুলিশ সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যায়।
পুলিশের দাবি, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের গুলিতে তিনি আহত হন।
আহত আবু ইছা বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
আফরোজা বেগম বলেন, শুক্রবার রাত দুইটার দিকে তাদের নলডাঙ্গাস্থ বাড়িতে ৮-১০ জনের একদল পোশাকধারী পুলিশ আসে। তারা আবু ইছাকে জামা গায়ে দিয়ে বের হতে বলেন। পরে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। সকালে তিনি শুনতে পান, তার স্বামী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার ওসি ছয়েরুদ্দিন আহমেদ জানান, ভোর রাত ৪টার দিকে তারা বিশেষ অভিযানে ছিলেন। ওই সময় যশোর-মাগুরা সড়কের কোদালিয়া এলাকায় রাস্তার ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে কয়েকজন ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বোমা নিক্ষেপ করে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে তার ডান পায়ে একটি গুলিবিদ্ধ হয়।
তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, আহত আবু ইছাকে উন্নত চিকিৎসার্থে শনিবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, এক সময়ের বিএনপি নেতা আবু ইছার বিরুদ্ধে বাঘারপাড়া থানায় নাশকতাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে ওসি জানান।
এদিকে, পুলিশে বিশেষ অভিযানে যশোরের ৯টি থানা এলাকা থেকে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীসহ ১০১ জনকে আটক করা হয়েছে।
যশোরের পুলিশের এএসপি ‘ক’ সার্কেল ভাস্কর সাহা জানান, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত চলা এই অভিযানে জামায়াতের ১৮, বিএনপির ৫ জনসহ মোট ১০১ জন আটক হয়েছে। আটককৃতদের সকলেরই বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
মানিকগঞ্জে জামায়াত আমিরসহ আটক ৭
অভিযানের দ্বিতীয় দিনে সাতক্ষীরায় গ্রেফতার ৩৫
ঝিনাইদহে জামায়াত-শিবিরের কর্মীসহ আটক ৪৮
/এসটি/ এএইচ/