ঝিকরগাছায় তিন ‘ডাকাত’ হত্যাকাণ্ড

পরিচয় মিলেছে একজনের, দুজন আঞ্জুমান মফিদুলে

যশোরমঙ্গলবার দিনগত রাতে ঝিকরগাছায় উদ্ধার হওয়া তিনজনের মরদেহের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া বাজারের চা দোকানি খোরশেদ আলম (৫০)। পরিচয় না মেলায় অন্য দুইজনকে আঞ্জুমান মফিদুলে হস্তান্তর করা হয়েছে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কেউ লাশের দাবি না তুললে ‘অজ্ঞাত’ হিসেবেই তা দাফন করা হবে।

অন্যদিকে বুধবার দুপুরেই যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিহত তিনজনের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

নিহত খোরশেদের মেয়ে সুমি ও ছেলে মনির বুধবার দুপুরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে এসে তাদের বাবাকে শনাক্ত করেন। অন্য দুইজনের লাশ ‘অজ্ঞাত’ হিসেবে দাফনের জন্য আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম নিয়ে গেছে।

শনাক্ত হওয়া খোরশেদ আলম শার্শা উপজেলার কাগজপুকুর গ্রামের আলম আলী সরদারের ছেলে। তিনি বেশ কয়েকবছর ধরে যশোর সদরের চাউলিয়া গ্রামে সপরিবারে বসবাস করতেন।

মেয়ে সুমি জানান, তার বাবা সোমবার সকালে নাভারণে এক আত্মীয়বাড়িতে বেড়াতে যান। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সুমি বলেন, ‘ঝিকরগাছায় তিন অজ্ঞাত ব্যক্তি মারা গেছেন শুনে ছোটভাই মনির হোসেনকে নিয়ে আমি হাসপাতালে আসি আজ (বুধবার) দুপুরে। তখন আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের লোকেরা লাশ তিনটি দাফনের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। আমরা বাবার লাশ চিনতে পারি। কর্তব্যরত পুলিশকে বলি লাশটি দিয়ে দিতে। কিন্তু পুলিশ জানিয়ে দেয়, ন্যাশনাল আইডি কার্ড দেখাতে হবে। স্থানীয় চেয়ারম্যানের সুপারিশ লাগবে। আমার মা ও ভাই গেছেন আইডি কার্ড আনতে।

হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবল রুহুল জানান, খোরশেদের মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে।

সুমি জানান, তারা সদর উপজেলার চাউলিয়া গ্রামের ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার বাবা খোরশেদ আলম রূপদিয়া বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন। তার নামে কোনও মামলা- মোকদ্দমা নেই বলে দাবি করেন সুমি।

কোতয়ালী থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন জানান, খোরশেদের নামে কোতয়ালী থানায় মামলা বা অভিযোগ নেই। তবে অন্য থানায় মামলা আছে কি-না তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

বুধবার দুপুরে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, তাদের তিনজনের মাথায় লোহার রড বা শক্ত লাঠি জাতীয় কিছু দিয়ে আঘাত অথবা শক্ত দেয়ালে মাথা ঠুকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

কোতয়ালী থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘পুলিশ লাশ হস্তান্তর করেছে আঞ্জুমানকে। তাদের হেফাজতে ৭২ ঘণ্টা লাশ থাকবে। এর মধ্যে কেউ লাশ শনাক্ত করলে পারিবারিকভাবে দাফনের ব্যবস্থা হবে। না হলে আঞ্জুমান নিজ দায়িত্বে লাশ সমাহিত করবে।’

প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে ঝিকরগাছার কৃষ্ণনগরে কপোতাক্ষ নদীর তীরে বঙ্গবন্ধু পার্কে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় অধিবাসীরা। পুলিশের দাবি, ডাকাতি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়ে তারা মারা গেছেন। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আশপাশের লোকজন ডাকাতি বা গণপিটুনির কথা কেউ শোনেননি বলে এই প্রতিনিধিকে জানান।

১৩ জুন গভীররাতে ডাকাতি শেষে ফিরে যাওয়ার সময় তাদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হন ঝিকরগাছা থানার এএসআই মোল্যা তৌহিদুল ইসলাম। এই ঘটনার পর স্থানীয় থানার পুলিশ ও কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি কৃষ্ণনগরের ওয়াপদা এলাকার জেলে পল্লীতে অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা ২০টির বেশি টিনের ঘর কুপিয়ে তছতন করে এবং তাদের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে যায়।

স্থানীয়দের ধারণা, পুলিশের কর্মকর্তা ছুরিকাহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে এই তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন- 

না. গঞ্জে আ.লীগ অফিসে বোমা হামলার ১৫ বছর: বিচার চলছে ধীর গতিতে
জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলবে, বাড়ছে না বিশেষ অভিযানের মেয়াদ

/জেবি/এফএস/