জমে উঠেছে ঈদ বাজার, জনপ্রিয়তার শীর্ষে ভারতীয় পোশাক

Khulna Pic 2 (21-06-16) (1)মধ্য রমজানেই খুলনায় ঈদের বাজার জমে উঠতে শুরু করেছে। দোকানগুলোতে ক্রেতা-সাধারণের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। বেচা-বিক্রিতে ব্যবসায়ীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, বরাবরের মত এ বছরও খুলনার মার্কেটে ভারতীয় পোশাকের চাহিদা বেশি। নানা রকম ডিজাইন আর হিন্দি সিনেমার নাম অনুসারে বেশ জনপ্রিয় ভারতীয় পোশাকগুলো। ভাল নকশা না থাকার কারণে দেশি পোশাকের চাহিদা খুবই কম।

এ বছর মেয়েদের জন্য দোকানিরা এনেছেন বাজিরাও মাস্তানি,বাগি ড্রেস, সামপুরা, লং কোটি, মাসাককালী, ওয়াইফাই, ক্যাকটাস, থ্রি ডি, বিভা, বিশাল, লকনা, আশিকী, পাখি, ফ্লোরটাচ, জয়পুরী, মাস্তানীয়া, সুইচ লন, কান্দী ভাঙ্গা, কাশিশ, ভিনয়। গত বছরের কিরণমালা, মধুমালা, মায়াপরী, পাকিস্তানি লনসহ বিভিন্ন নামের থ্রিপিস ও ফোর পিস পোশাকও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের ত্রি-পিস দেড় হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ছেলেদের কালার ফুল শার্ট, চেক শার্ট, এক কালার শার্ট, জিন্স ও গ্যাবাডিং প্যান্টের পাশাপাশি বাহারি ডিজাইনের পাঞ্জাবি পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

Khulna Pic 3 (21-06-16) (1)সোহরাওয়ার্দী বিপণী বিতানের মো. মোশাররফ হোসেন বুলু বলেন, প্রতিটি পোশাকই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। বিক্রি ভাল হওয়ায় মালিকও সন্তুষ্ট রয়েছেন। প্রথম দফায় আনা পোশাক বিক্রি প্রায় শেষ। নিম্মবিত্তদের সুবিধার জন্য ভারতীয় কম দামি পোশাকও রাখা হচ্ছে।

কেডিএ নিউমার্কেটের অ্যারোমা শপিং মলের মো. হাসান শেখ বলেন, দেশীয় পোশাকের চেয়ে ভারতীয় পোশাক বেশি পছন্দ করছে মেয়ে ক্রেতারা।

কলেজ পড়ুয়া আঞ্জুমান আরা বলেন, ঈদের পোশাকে এক ধরনের প্রতিযোগিতা থাকে। যাতে দামের চেয়েও আকৃষ্ট করার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। প্রতিযোগিতার এ স্থানে দেশীয় পোশাক স্থান পাচ্ছে কম।

বয়রা থেকে আসা ক্রেতা সুলতানা খাতুন বলেন, ভারতীয় ত্রি-পিসের ডিজাইন ও রং ভাল লাগছে। মধ্যবিত্তদের জন্য দামও আওতার মধ্যে রয়েছে।

হাসান এন্টারপ্রাইজের জাহিদুল হাসান বলেন, শূন্য থেকে ৭ বছরের শিশুদের পোশাক বিক্রি করছেন তিনি। তার দোকানে ৩৫ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকা দামের পোশাক রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে বিক্রি বাড়লেও লাভ কম হচ্ছে। পণ্যের দাম গত বছরের চেয়ে একটু বেশি। তবে, গত বছরের দাম ধরে রাখার চেষ্টার কারণে তার দোকানে বিক্রি ভাল হচ্ছে।

বিক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, তারা শিশুদের পোশাক বিক্রি করেন। তাদের দোকানে ২৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত দামের পোশাক রয়েছে। বেচা-বিক্রিতে তারা সন্তুষ্ট।

Khulna Pic 4 (21-06-16) (1)ঈদের বাজারে শাড়ির প্রতি আকর্ষণ কম। বিভিন্ন শাড়ির দোকানে টাঙ্গাইল শাড়ি ৬০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা, জর্জেট শাড়ি ১২০০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা, সিল্ক শাড়ি দুই হাজার টাকা থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সুতি পাঞ্জাবি তিনশ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা, জর্জেট পাঞ্জাবি দেড় হাজার টাকা থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা, সিল্ক পাঞ্জাবি (ভারতীয়) দুই হাজার টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা, জামদানি পাঞ্জাবি ৭০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা, টিস্যু পাঞ্জাবি সাড়ে তিন হাজার টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা, মটকা পাঞ্জাবি ১২০০ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা দাম রয়েছে। বিভিন্ন সাইজের শার্ট ৪০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা, জিন্স প্যান্ট ছোটদের ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা, বড়দের ৭০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা, গ্যাবাডিন প্যান্ট এক হাজার টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। ফুটপাতের ঈদ উপলক্ষে শার্টের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। যা দেড়শ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এখানকার শার্টগুলোর রং ও ডিজাইন ভাল হওয়ার কারণে ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। জুতার বাজারও চাঙ্গা রয়েছে। ছোটদের জুতা স্যান্ডেল ৪০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা, বড়দের স্যান্ডেল ৬০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা, জুতা ৭০০ টাকা থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
বৈচিত্র্যময় রঙিন কুর্তি

/বিটি/