কেসিসির ৮ কর্মকর্তাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

খুলনাখুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) দুটি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রকল্প প্রধানসহ আট কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার ও মঙ্গলবার ঢাকায় দুদবের প্রধান কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এরা হলেন কেসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী শহীদ হাদিস পার্ক ও তৎসংলগ্ন পুকুরের উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী-২ ময়ূর নদীর তীরে লিনিয়ার পার্ক নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. লিয়াকত আলী খান, কেসিসির সাবেক বাজেট কাম অ্যাকাউন্টস অফিসার (অবসরপ্রাপ্ত) মো. আজহারুল ইসলাম, কেসিসির পূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমল হোসেন, বর্তমান বাজেট কাম অ্যাকাউন্টস অফিসার কে. এম মুশতাক আহমেদ, ময়ূর নদীর তীরে লিনিয়ার পার্ক নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত পূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসেন, শহীদ হাদিস পার্ক ও তৎসংলগ্ন পুকুরের উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত পূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শেখ শহীদুল ইসলাম এবং পূর্ত বিভাগের অফিস সহকারী (হেড ক্লার্ক) হেমায়েত উদ্দিন।

শহীদ হাদিস পার্ক ও তৎসংলগ্ন পুকুরের উন্নয়ন এবং ময়ূর নদীর তীরে লিনিয়ার পার্ক নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গত ১৬ মে প্রকল্প দুটির সংশ্লিষ্টদের দুদকে হাজির হওয়ার জন্য কেসিসিতে নোটিশ পাঠানো হয়।

কেসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, দুদকের নোটিশ পেয়ে তিনিসহ কর্মকর্তরা ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে খুলনায় ফিরে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে তিনি জানান।

এর আগে ২৪ মে কেসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী-২ লিয়াকত আলী খান ও নির্বাহী প্রকৌশলী-৩ মশিউজ্জামান খান ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রাথমিক শুনানিতে অংশ নেন এবং সংশ্লিষ্ট তিনটি প্রকল্পের ফাইল জমা দেন। এবারের জিজ্ঞাসাবাদে খুলনা মহানগরীর রাস্তা ও ফুটপাত সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের একাংশ গল্লামারী-টু-সোনাডাঙ্গা আউটার বাইপাস সড়কের ডিভাইডার নির্মাণ প্রকল্পটি বাদ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শহীদ হাদিস পার্ক ও তৎসংলগ্ন পুকুরের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের কাজ ২০১৪ সালের ৩০ জুন শেষ হয়। এ প্রকল্পের প্রধান (পিডি) ছিলেন কেসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম। ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকায় প্রকল্পটি সম্পন্ন করা হয়। তবে কাজ চলাকালীন পুকুরের সাইড ওয়াল কিছুটা হেলে পড়াসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ময়ূর নদীর তীরে লিনিয়ার পার্ক নির্মাণ প্রকল্পের প্রধান (পিডি) ছিলেন কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী-২ লিয়াকত আলী খান। ৮ কোটি টাকার এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় ২০১৪ সালের ৩০ জুন। প্রকল্পটি এখনও সম্পন্ন হয়নি। ফলে এটি অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।

আরও পড়ুন:
সিএমপি’র চার ডিসিসহ ১৩ এসপি’র রদবদল

দুই ‘খুনির’ জবানবন্দি নিয়ে পুলিশের রহস্যময় রাখঢাক

 

/বিটি/