কয়রায় বেড়িবাঁধে ভাঙন : ৩ লাখ মানুষ আতঙ্কে

Khulna Pic 1 (10-07-16)

বার বার বাঁধ ভাঙে। সংস্কারও হয়। কিন্তু, কাজের কাজ কিছুই হয় না। পরিকল্পিতভাবে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় প্রতি বছরই হুমকির মুখে পড়ে খুলনার কয়রার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংলগ্ন এলাকার মানুষ। বাঁধে ভাঙন আর ফাটল দেখা দেওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চল কয়রার প্রায় ৩ লাখ মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণেই এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। পাউবো কর্মকর্তাদের দাবি, ভাঙন রোধে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, কয়রায় পাউবোর ১৩০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ রয়েছে। ২০০৯ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আইলার পর গত ছয় বছরে কয়েক দফা ভাঙনের কবলে পড়েছে বেড়িবাঁধ। আইলায় ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধগুলো ৩ বছর পর মেরামত করা সম্ভব হলেও নতুন বাঁধ নির্মাণে আজও কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ৬০ এর দশকে নির্মিত এই সব বেড়ি বাঁধে বড় ধরনের সংস্কার এনে স্থায়ী কোনও সমাধান করা হয়নি। এই বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই বাঁধের অনেক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। তাই উপকূলীয় এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের দাবি বাঁধের কোল ঘেঁষে চিংড়ি ঘেরের কারণেই ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। বাঁধ কেটে পাইপ ঢুকিয়ে হরহামেশা পানি ওঠানামানো করায় বেড়িবাঁধের এই দুর্দশা হয়েছে বলে জানান এলাকার সচেতন মানুষরা। দ্রুতগতিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ পাউবোর বেড়িবাঁধ সংস্কার করা না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে যেতে পারে ৩ লাখ মানুষের বসবাসযোগ্য কয়রা জনপদ সেই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি।

এদিকে, মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে পাউবোর ২১ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ। গত কয়েকদিনের বর্ষা ও জোয়ারের পানির চাপে বাঁধের কিছু কিছু স্থানে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। উত্তর বেদকাশি ও দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর কিছু কিছু অংশে বাঁধ চিকন হয়ে গেছে। নদীর প্রবল স্রোত আর ঢেউ এর কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, পাউবো ১৩/১৪-১ ও ১৩/১৪-২ এর অধীনে অন্তত ২১ কিলোমিটার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত বাঁধগুলো মেরামত করতে না পারলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ সব বেড়িবাঁধের মধ্যে অন্তত ১১ কিলোমিটার রয়েছে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। পাউবোর ১৩/১৪-১ পোল্ডারের আংটিহারা, গোলখালি, ঘড়িলাল, জোড়শিং, গাতিরঘেরি, হরিহরপুর বেড়িবাঁধের বেশিরভাগ জায়গা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ১৩-১৪/২ পোল্ডারের কাটকাটা, গাজীপাড়া, গাববুনি, কাশিরহাট, ৪নং কয়রা, ৬নং কয়রা, পাথরখালি, হরিনখোলা, দশালিয়া, মঠবাড়ি, শিকারিবাড়ি, কালিবাড়ি বেড়িবাঁধের অবস্থা খুবই নাজুক। এ সব বেড়িবাঁধ এই মুহূর্তে সংস্কার করা না হলে বর্ষা ও স্রোতে যে কোনও মুহূর্তে গোটা এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

বেড়িবাঁধ সংস্কার প্রসঙ্গে কয়রা উপজেরা পরিষদের চেয়ারম্যান আ খ ম তমিজ উদ্দিন বলেন, জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় কয়রার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো সংস্কারের জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া তিনি আরও  বলেন, পরিকল্পনা মাফিক বেড়িবাঁধ সংস্কার করা না হলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাতক্ষীরা জোনের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। এরইমধ্যে ৪টি পয়েন্টে টেন্ডার হয়েছে। সেখানে শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন : শোলাকিয়ায় হামলা: ১০ দিনের রিমান্ডে জাহিদুল