আইএস মুসলমানদের সংগঠন নয়, উল্লেখ করে দেশের সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতার পেছনে ‘জামায়াত-বিএনপির’ মদদ ও ‘ইহুদি নাসারাদের ইন্ধন’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি। বৃহস্পতিবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের উদ্যোগে জেলা স্কুল অডিটরিয়ামে ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ইসলামের আহ্বান’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর সদরের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দেশবাসী এখন দুটি বিষয়ে উদ্বিগ্ন। প্রথমটি, আমাদের প্রিয় ধর্ম ইসলাম আজ আক্রান্ত। দ্বিতীয়টি, আমাদের মাতৃভূমি, যার জন্যে ৩০ লাখ মানুষের জীবন ও দুই লাখ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে পাওয়া প্রিয় স্বদেশ আজ সন্ত্রাসী জঙ্গি হামলার শিকার। এসব অপকর্ম পেছনে দেশের ভেতরে থেকে জড়িত জামায়াত-বিএনপি। আর নেপথ্যে ইন্ধন দিচ্ছে ইহুদি-নাসারারা।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয় নবী হজরত মুহম্মদ (সা.) ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে গোটা বিশ্বের মানুষের হৃদয় জয় করতে সক্ষম হন। ইসলাম খুন-খারাবি, নৈরাজ্য, সন্ত্রাস সমর্থন করে না। কিন্তু সেই ধর্মের নামে আইএস এখন বিভিন্ন দেশে হত্যা-সন্ত্রাস করে ইসলামের পবিত্রতা নষ্টের চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আইএস-র অপতৎপরতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইসলামী স্টেট কায়েমের নামে এই জঙ্গি সংগঠনটি ইরাকের তিন হাজার বছরের সভ্যতা ধ্বংস করেছে। সিরিয়ায় মুসলমানদের উপর অকথ্য নির্যাতন চালাচ্ছে।
আইএসকে ইজরায়েলি ইহুদিদের সংগঠন দাবি করে তিনি বলেন, ‘তারা মুসলিম অধ্যুষিত দেশে হামলা চালালেও ইহুদি-নাসারাদের তীর্থভূমি ইজরায়েলে কখনও হামলা চালায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘গুলশানের আর্টিজান হোটেলে হামলার পরপরই আইএসের মুখপাত্র সাইট ইন্টেলিজেন্স সেখানকার হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়। এই সাইট ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা করেন রিটা কাৎজ, যিনি ইহুদি বাবা-মায়ের সন্তান। তার বাবা ইজরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির কারণে ইরাকে সাজাপ্রাপ্ত হন। এই রিটা কাৎজ পরিণত বয়সে মোসাদে (ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা) যোগ দেন এবং পরে স্বামীসহ আমেরিকা গিয়ে সিআইএর এজেন্ট হন।
মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে প্রথমে মুক্তচিন্তার মানুষদের ওপর হামলা শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন ধর্মের সেবায়েত, পুরোহিত, যাজকদের উপর হামলা করা হয়। সর্বশেষ গুলশান এবং শোলাকিয়ায় হামলা করেছে জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা। বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী মোসাদের এক ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতের পরপরই দেশে গুপ্তহত্যা শুরু হয়।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এই নেতার বলেন, ইতোমধ্যে পাবনা, ঝিনাইদহ, গুলশান এবং শোলাকিয়ায় হামলার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে আটক এবং তাদের স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে তারা ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মী। তবে কি জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরাই এখন আইএসের নামে জঙ্গি-তৎপরতা শুরু করেছে?
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি যশোর সদরের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ যখন মধ্যম আয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখুনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন নামে জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা উন্নয়ন ব্যাহত করতে তাদের ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে। এসব জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের মূল এক জায়গাতেই।
তিনি বলেন, ইসলাম শান্তি ও জ্ঞানঅর্জনের ধর্ম। ইউরোপে একসময় অন্ধকার যুগ ছিল। ইসলাম কায়েমের পর মধ্যপ্রাচ্যসহ বহুদেশ ইসলামের আলোয় আলোকিত হয়। জ্ঞানচর্চার জন্যে বহু মানুষ বাগদাদ, দামেস্ক এইসব জায়গায় আসতেন। বিশ্বের বহু নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে কায়রোর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পায়।
তিনি বলেন, ইসলাম আমাদের শেখায় মেহমানদের নিরাপত্তা, তাদের আহার আর থাকার ব্যবস্থা করা। কিন্তু জঙ্গিরা কোন ইসলাম দেখে রমজান মাসের শুক্রবারে আর্টিজানে হামলা করে আমাদের মেহমান বিদেশিদের খুন করা শিখেছে?
তিনি বলেন, ইসলাম ধর্ম আমাদের শিখিয়েছে জ্ঞানচর্চার কথা, মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ, সৃষ্টিশীলতা। আর সেখানে এই ধর্মের নাম করে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ খুন-খারাবি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
তিনি কর্মশালায় আগত ইমাম, মাশায়েখদের উদ্দেশে বলেন, ‘সমাজে আপনাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। মানুষের মধ্যে ইসলামের সঠিক বাণী পৌঁছে দিয়ে এইসব অরাজক পরিস্থিতি থেকে তাদের নিবৃত্ত করুন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের আয়োজনে জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় আরও বক্তৃতা করেন সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক নাসিরুদ্দিন মোল্যা, মাওলানা রুহুল আমিন, হারুন অর রশিদ প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন যশোর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলনসহ যশোরের বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক, মসজিদের ইমাম, শিক্ষকরা।
/এইচকে/
আরও পড়ুন: নিখোঁজদের তালিকা তৈরি নিয়ে বিভ্রান্তি!