সাতক্ষীরায় ৬ মাসে বিজিবির জব্দ মালের অর্থমূল্য সাড়ে ৫৬ কোটি টাকা

বিজিবিসাতক্ষীরা সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় ৩৮ বিজিবির সদস্যরা গত ৬মাসে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫৬ কোটি ৫৬ হাজার ৪৪০ টাকার মালামাল জব্দ করেছে। এ সময়ের মধ্যে ৪০জন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৩ হাজার ৯৭৫ বোতল ফেন্সিডিল ও ৮৫৩ বোতল মদ।  এসবের মধ্যে ভারত থেকে আসার পথে ৩ ৮ কোটি ৪৪  হাজার ৪৪০ টাকার ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার পথে ১৭কোটি ৮৯ লাখ৭৪ হাজার ৫৬৮টাকার মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ৬ মাসে এত বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য বিগত কয়েক বছরের মধ্যে বিজিবির হাতে আটক হয়নি। সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও অব্যাহত অভিযান চালানোয় এ বিপুল মালামাল উদ্ধার করতে পেরেছে বিজিবি সদস্যরা।
বিজিবির সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মাসে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৬ কোটি ৬৩ হাজার ৪৪০ টাকার অবৈধ মালামাল আটক করেছে। এরমধ্যে জানুয়ারি মাসে ৯ কোটি ২৯ লাখ ৮২ হাজার ৬৪১টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৩ কোটি ৭০লাখ ৪ হাজার টাকা ও মার্চ মাসে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৯৩ হাজার ১৮১ টাকা, এপ্রিল মাসে ১১ কোটি ১০লাখ  ৪৮হাজার ৭৩০টাকা, মে মাসে ৭কোটি ৪৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫৭০টাকা ও জুন মাসে ১ কোটি ৫০ লাখ ৬৯ হাজার ২০০টাকা।

উদ্ধারকৃত  মালামালের মধ্যে রয়েছে শাড়ি, থ্রীপিস, শার্টপিস, লবণ, ফেনসিডিল, গাজা, সাইকেল, রসুন ,চামড়া, শাখা, শ্যাম্পু, পান, মদ, সোনা, রূপা, মোটরসাইকলে, সাইকেল পার্টস, চন্দন  কাঠ, আঙুর, কমলা, প্রসাধন সামগ্রী, গরুর মাংস, পাথর, জিরাসহ শতাধিক আইটেমের পণ্য। সীমান্তের চন্দনপুর, হিজলদি, মাদরা, ভাদিয়ালি, কাকডাঙ্গা, ঝাউডাঙ্গা, তলুইগাছা, কুশখালি, বৈকারি, ভোমরা, কলারোয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়।

৩৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আরমান হোসেন জানান, চলতি বছরের ৬ মাসে প্রায় ৫৭ কোটি টাকার অবৈধ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক উদ্ধার করা হয়েছে ৩ হাজার ৯৭৫ বোতল, বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে ৮৫৩ বোতল, গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে ৩ কেজি, ও বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে ৭ লাখ ৫ হাজার ১৯ পিস। আটক করা হয়েছে ৪০ জন চোরাকারবারিকে। মাদকের মামলা দায়ের করা হয়েছে ১৩৪টি। ১৩ জনকে পলাতক আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।  

তিনি জানান,সীমান্তে চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার ও মাদক পাচাররোধে বিজিবি সদস্যরা সকল সময় তৎপর রয়েছে। মাদক পাচারকারীদের কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সীমান্ত এলাকায় অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা রুখতে যা যা করা প্রয়োজন বিজিবি সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। চোরাচালান, মাদক পাচার রোধে এলাকায় সভা, সমাবেশ, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন প্রচার চালানো হচেছ। মাদক, চোরাচালান রোধে শিক্ষক, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, ছাত্রছাত্রীসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষসহ সকলের সহযোগিতা কমনা করেন।

/এইচকে/

আরও পড়ুন: যশোরে আরও পাঁচজনের জঙ্গি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ