যশোর পুলিশের তালিকাভুক্ত কথিত জঙ্গি কামরুজ্জামান তুহিন ওরফে মুন্না (২৪) জামিনে পেয়েছেন। বুধবার দুপুরে যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল ইসলাম তাকে জমিন দেন।
মুন্নার পক্ষে আইনজীবী এম এ গফুর জামিন প্রার্থনা করেন। বিকেলে তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
গত ২৫ জুলাই স্বজন, স্থানীয় কাউন্সিলর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশের কাছে যান শহরের শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার আব্দুস সোবহানের ছেলে মুন্না। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে মায়ের ওপর অভিমান করে মুন্না ঢাকায় চলে যান। তিনি যশোরের সিটি কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে অনার্সের ছাত্র ছিলেন। এক বছর সেখানে লেখাপড়া করেন। ঢাকায় চলে যাওয়ার পর তিনি আড়াই বছরের মধ্যে বাড়ির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেননি।
এদিকে ঢাকার গুলশান এবং কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার কারণে পুলিশ নানাভাবে তৎপর হয়ে ওঠে। যশোরের পুলিশ বিভিন্ন সময় নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা করে তাদের ওপর নজরদারি করে। যশোরে থেকে নিখোঁজ ৭ জনের নাম পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ৫ জনের সঙ্গে জঙ্গি কানেকশন আছে বলে সাংবাদিকদের জানায় এবং তাদের ধরিয়ে দিতে রঙিন পোস্টারও ছাপানো হয়। ওই পোস্টারে সর্বপ্রথমে মুন্নার ছবি রয়েছে।
মুন্নার বাবা আব্দুস সোবহান অভিযোগ করেন, তাদের বিএনপি-জামায়াত পরিবার উল্লেখ করে, ছেলেকে জঙ্গি বানাতে পাঠিনো হয়েছে বলে অপবাদ দেয় কোতোয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) শ্যামলাল নাথ। শ্যামলাল নাথ সপ্তাহ খানেক আগে তার কাছ থেকে একটি জিডিতে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এবং সেখানে রাইটার দিয়ে তিনি (শ্যামলাল) লিখে নেন যে-‘আমার ছেলে নিখোঁজ। সে জঙ্গি কানেকশনে থাকতে পারে।’
গত ২৩ জুলাই মুন্না আকস্মিকভাবে তার ছোটভাই আব্দুস সবুরের কাছে ফোন করেন। ঢাকার ইসলামবাগ এলাকার একটি মেয়েকে তার পছন্দ হয়েছে এবং তাকে বিয়ে করবেন বলে বাবা-মায়ের অনুমতি চান। মেয়ের বাবার দাবি অনুযায়ী তাদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ফোন করা হয়। সে সময় তিনি জানতে পারেন, যশোরের পুলিশ জঙ্গি হিসাবে সন্দেহ করছে। তার ছবি পোস্টারে ছাপা হয়েছে। ২৫ জুলাই ভোরে তিনি নতুন বউ নিয়ে যশোরে ফেরেন এবং ওইদিনই দুপুরে কোতোয়ালী থানায় হাজির হন।
যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, মুন্নার পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহ করা হয়েছিল সে জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। সে হিসাবে তাকে সন্দেহ করা হয়েছে। যদি সে নিরাপরাধ হয় তাহলে আইনি সহায়তা নিশ্চয় পাবে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে আইনি সহায়তা চাওয়া হয়েছে। শুধু পুলিশ না বিভিন্ন গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করে রিপোর্ট না দেওয়া পর্যন্ত মুন্নাকে পুলিশ হেফাজতে থাকবে হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
২৬ জুলাই মুন্নাকে ১৫১ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। বুধবার সকালে তার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে যায়। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুন্নার আইনজীবী।
মুন্নার বাবা আব্দুস সোবহান বলেন, ‘ছেলের জামিন হওয়ায় আমি খুব খুশি। আমার ছেলে জঙ্গি না। এটা পুলিশকে বারবার বলা হয়েছে।’
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন : লাশ শনাক্ত করতে ঢাকা আসছেন সাব্বিরের বাবা