নড়াইলে খাবারের বিষক্রিয়ায় ৩ ছাত্রের মৃত্যু: নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম

Narail-03 (28.07.16)67

নড়াইলে কওমি মাদ্রাসায় খাবারের বিষক্রিয়ায় তিন ছাত্রের মৃত্যুতে নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। নিহত তিনজনের মা বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। তবে ওই তিন শিশুর মৃত্যুর কারণ এখনও কারো কাছে পরিস্কার নয়।

উল্লেখ্য, নড়াইল সদর উপজেলার শিমুলিয়া এলাকায় অবস্থিত জামিয়াতুস সুন্নাহ মোহাম্মাদীয়া কওমিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বুধবার রাতে এই তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই সময় অসুস্থ্য হয় ১৮ জন।

মাদ্রাসা সুপার আব্দুল কাদের ও ছাত্ররা জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় বাবুর্চি খাবার রান্না করে ছাত্রাবাসে রেখে যান। লজিং বাড়ি থেকে টিফিন বাটিতে করে আনা অন্য ছাত্রদের খাবার এবং ছাত্রাবাসের রান্না করা খাবার রাত ৯টার দিকে তারা একত্রে বসে খায়। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে বমি শুরু হলে অসুস্থ ছাত্রদের নড়াইল সদর হাসপাতালে আনা হয়। অসুস্থদের মধ্যে নড়াইল সদরের বড়গাতি গ্রামের জব্বার শেখের ছেলে এনামুল হক (১৬) ও একই গ্রামের আফসার শেখের ছেলে আশরাফুল এবং ভদ্রবিলার পাঁচুড়িয়া গ্রামের মুকিদের ছেলে আলিফের (৮)পথেই মৃত্যু হয়। এদিকে, অসুস্থ ১৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর এবং খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে মাদরাসা শিক্ষক ইমরান হোসেনও আছেন।  তবে, কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি প্রশাসনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

নড়াইল সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক অনিক সাহা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবারের বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, সিভিল সার্জন তারেক মোহাম্মদ শফি জানিয়েছেন, খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।নড়াইল সদর হাসপাতালে মৃত তিন ছাত্রের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে।

Narail-02 (28.07.16)34

মাদরাসার বাবুর্চি ওমেদ আলি বলেন, প্রতিদিনের মতো খাবার রান্না করে তা ছাত্রদের সামনে নিয়ে যাই। তবে গতকাল কেন এমন হয়েছে, তা কোনও ভাবেই বুঝতে পারছি না। তদন্ত করলে বিষয়টি বেরিয়ে আসবে বলে আশা করি।

এ ব্যাপারে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবাস বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। খাদ্যে বিষক্রিয়ায় ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে নাকি অন্য কোনও কারণে হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমদাদ আলী মোল্যা বলেন, ২০০৭ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর কোনও দিন এ ধরণের ঘটনা ঘটেনি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন : মৌলভীবাজারে জঙ্গি দমনে পাড়া মহল্লায় মাইকিং ও গণসচেতনতা