খুলনা বিভাগসহ আশেপাশের ১৬ জেলায় আগামী ২৯ আগস্ট ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা। আরোপিত নানা রকম ভ্যাট, ট্যাক্স ও কমিশন নির্বিচারে আদায়ের প্রতিবাদসহ ১০ দফা দাবিতে এ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি খুলনায় শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২৮ আগস্টের মধ্যে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান না হলে ২৯ আগস্ট তিনটি তেল ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ করাসহ ট্যাংকলরি চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলনে নামার প্রস্ততি গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করা হয়। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিস্ফোরক ও ট্রেড লাইন্সেসের ফি কমানো, বিএসটিআই ফি বন্ধ করা, ফিলিং স্টেশনের জন্য পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ও ফিলিং স্টেশনের প্রবেশ দ্বারের সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি ব্যবহারে খাজনা, ইজারা প্রদান ও নবায়ন সমস্যা সমাধান, ফায়ার সার্ভিস ফি বন্ধ, জ্বালানি তেল ব্যবসার কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদফতরের লাইসেন্স বন্ধ করা, এনার্জি রেগুলেটরি লাইসেন্স বাতিল, সব ধরনের নীতিমালা উপেক্ষা করে নতুন পেট্রোল পাম্প স্থাপনের অনুমতি প্রদান বন্ধ, ফিলিং স্টেশনগুলির জমির খাজনা আগের অবস্থায় নির্ধারণ এবং পদ্মা, মেঘনা, যমুনা তেল ডিপো থেকে সরবরাহ করা পেট্রোল, অকটেনের মান সঠিক রাখা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা শুধুমাত্র তেল পরিবেশনে নিয়োজিত থাকে। সে হিসেবে সরকারি ট্যাক্স, লাইসেন্স, ছাড়পত্রসহ সব কাজ দেখাশোনা বা সম্পন্ন করার কথা তেল কোম্পানি অথবা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-র। এ জন্য প্রতিটি তেল ডিপোকে ৯ হাজার লিটারে ৪৫ টাকা হারে লাইসেন্স ফি প্রদান করতে হয়। অথচ উল্লেখিত কোম্পানি কখনোই লাইসেন্স নবায়ন করে না এবং এ কাজে কোনও প্রকার সহযোগিতা করে না। জ্বালানি সেক্টরে ফিলিং স্টেশনগুলো সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। সরকার নির্ধারিত কমিশনের আয়ের ওপর এ ফিলিং স্টেশনগুলো পরিচালিত। একটি ফিলিং স্টেশন নির্মাণ করতে যে সব সংস্থার লাইসেন্স গ্রহণ করতে হয় তার ফিও অনেক বেড়ে গেছে। এ ছাড়া নতুন করে পরিবেশ অধিদফতর, কল কারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদফতরসহ আরও বেশ কিছু সংস্থা লাইসেন্স গ্রহণের জন্য ফিলিংস স্টেশনগুলোতে চাপ প্রয়োগ করছে।
শনিবার বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নিজস্ব ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ আ. গফ্ফার বিশ্বাস।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্যাংকলরী ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরহাদ হোসেন, এম, মাহবুব আলম, আতিকুর রহমান তিকু, আলহাজ হাবিবুর রহমান, আ. সোবাহান মোড়ল, শেখ মুরাদ হোসেন, গাজী হাফিজুর রহমান, খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মীর মোকসেদ আলী, সাধারণ সম্পাদক এনাম মুন্সী, পদ্মা মেঘনা যমুনা শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি সুলতান মাহমুদ পিন্টু, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম কালু, শেখ জাহিদুল ইসলাম, নুরন্নবী খান পল্টু, শেখ মিরাউল ইসলাম, গাজী মামুন অর রশিদ, মো. রুহুল আমিন, মো. শরিফুল ইসলাম, মো. নুরন্নবী খান পল্টু, খন্দকার মুজিবর রহমান, মো. রফিদুল হক টোটন, মো. রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
/টিএন/
আরও পড়তে পারেন: ৯ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক আটক