এস এম সুলতানের ৯২তম জন্মবার্ষিকী আজ


এস এম সুলতানবরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৯২তম জন্মবার্ষিকী আজ বুধবার (১০ আগস্ট)।এ উপলক্ষে নড়াইল জেলা প্রশাসন, সুলতান ফাউন্ডেশন, এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। কর্মসূচির মধ্যে আছে শিল্পীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, কবর জিয়ারত, কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ। এছাড়া আগামী ২৯ থেকে ৩১ আগস্ট তিন দিনব্যাপী সুলতান উৎসব এবং ১ সেপ্টেম্বর চিত্রা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
বরেণ্য এই গুণী শিল্পী ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম লাল মিয়া। বাবা মেছের আলী ছিলেন রাজমিস্ত্রি।  ছোটবেলা থেকেই ভাল ছবি আঁকতেন সুলতান।  ১৯৩৩ সালে  পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় রাজনীতিক ও জমিদার শ্যামাপ্রাসাদ মুখোপাধ্যায়ের পোট্রেট এঁকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
১৯৪৫ মতান্তরে ’৪৬ সালে ভারতের সিমলায় তার প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী হয়। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বোন ফাতিমা জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে লাহোরে সুলতানের চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। ১৯৫০ সালে চিত্রশিল্পীদের আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে পাকিস্তান সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদানের জন্য তিনি আমেরিকা যান। এরপর ইউরোপের বেশ কয়েকটি একক ও যৌথ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন।
সুলতানই প্রথম এশীয় যার আঁকা ছবি পাবলো পিকাসো, সালভেদর দালি, পল ক্লী প্রমুখ খ্যাতিমান শিল্পীদের ছবির পাশে প্রদর্শিত হয়েছে।
১৯৫৩ সালে নড়াইলে ফিরে আসেন সুলতান। শিশু-কিশোরদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি চারুকলা শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। ১৯৬৯ সালের ১০ জুলাই ‘দি ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্ট’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৭ সালে স্থাপিত হয় ‘শিশুস্বর্গ’।
এদিকে, সুলতান তার সঞ্চিত অর্থ দিয়ে ১৯৯২ সালে ৯ লাখ মতান্তরে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট দ্বিতলা নৌকা (ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গ) নির্মাণ করিয়েছিলেন। চিত্রাংকনের পাশাপাশি বাঁশি বাজাতে পারতেন।

চিত্রাপাড়ের লালমিয়া শিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে পেয়েছেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার। এছাড়া ১৯৮২ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি এবং ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা, ১৯৯৯ সালে চারুকলা ইনস্টিটিউটের ৫০ বছর পূর্তিতে সম্মাননা (মরণোত্তর) পান।  

১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর অসুস্থ অবস্থায় যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রিয় জন্মভূমি নড়াইলের কুড়িগ্রামে তাকে শায়িত করা হয়।

/বিটি/