খুলনায় জনকণ্ঠের সম্পাদকসহ তিনজনের নামে মানহানি মামলা


downloadজাতীয় পত্রিকা দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদকসহ তিনজনের নামে মানহানির মামলা করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক। বৃহস্পতিবার দুপুরে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারুক ইকবালের আদালতে ফৌজদারি আইনে মামলাটি করেছেন পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী। তিনি স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগটি দায়ের করেন। শুনানি শেষে বিচারক অভিযোগটি মামলা হিসেবে আমলে নিয়ে  প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।  আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন বিচারক।  

মামলায় প্রতিবেদক রশিদ মামুনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। সম্পাদক, মুদ্রাকর ও প্রকাশক মো. আতিকউল্লাহ খান মাসুদকে দু’নম্বর এবং নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়কে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে। প্রথম দিনে আদালতের বিচারক অভিযোগটি আমলে নিলেও আসামিদের ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত দেননি।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট দৈনিক জনকণ্ঠের প্রথম পাতায় ‘বিভ্রান্তির হাতিয়ার: রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিরোধী আন্দোলন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদে বলা হয়,  দুজন জামায়াতপন্থী শিক্ষক এ আন্দোলন শুরু করেন। দুটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন পরিবেশ বিজ্ঞানের শিক্ষক শুরুতেই রামপাল ইস্যুতে বিভ্রান্তিকর গবেষণা প্রতিবেদন দিয়ে পরিবেশবাদীদের উস্কে দেন।  এই দুজন শিক্ষকই জামায়াত পন্থী। ২০১৩ সালের  শুরুতে মূলত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে সুন্দরবন ধ্বংস করা হচ্ছে এমন গবেষণাপত্র দিয়ে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করতে আসেন ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিরোধী পক্ষের ঘরে এর সুফল তুলে দিতেই তিনি এই কৌশলের আশ্রয় নেন বলে ওই সংবাদে বলা হয়। কিন্তু এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক, উদ্দেশ্য প্রনোদিত, মানহানিকর। এ রকম  মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে আসামিরা বাদীর ব্যক্তিগত, শারীরিক, পারিবারিক, সামাজিক, পেশাগত সম্মানহানি ঘটিয়েছেন। যা অপূরনীয়। মামলায় তিনি আসামিদের গ্রেফতার ও সুবিচার প্রার্থনা করেন।

বাদী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন মো. বাবুল হাওলাদার। তিনি বলেন, আদালতের বিচারক অভিযোগটি বিচারের জন্য আমলে নিয়েছেন। মামলা নম্বর সি আর ২৮/১৬। বিচারক মামলার পরবর্তী শুনানি ২৯ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছেন।

অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে প্রকাশিত জনকণ্ঠের সংবাদে তাকে জামায়াতপন্থী শিক্ষক বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং রাজনৈতিক দলের কোনও সভা-সমাবেশে যান না। তিনি দাবি করেন, ২০১৩ সালে ঢাকার সংবাদ সম্মেলনে তিনি যাননি। 

আরও পড়ুন:

ব্যর্থতাই যশোরকে সফলতা এনে দিয়েছে

৬৯ হাজার হজযাত্রীর টিকিট সংগ্রহের আহ্বান মন্ত্রীর

 

/বিটি/