দুই হাজারেরও বেশি চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে বাগেরহাটে

বাগেরহাটরবিবার ভোর থেকে টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাট পৌর শহরসহ জেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এদিন দুপুরে চিতলমারীতে ঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে দুই হাজারেরও বেশি চিংড়ি ঘের ও শত শত পুকুর।

বৃষ্টিতে মংলা বন্দরে জাহাজে পণ্য উঠানামার কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। পৌরসভায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ পৌরসভার বাসিন্দাদের।

টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাট পৌরসভার বাসাবাটি, খারদ্বার, সাহাপাড়া, মিঠাপুকুরপাড়, মেইনরোড, সাধনার মোড়, রাহাতের মোড়, থানার মোড়, কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক, পুরাতন বাজার, দাসপাড়ার মোড়, রেলরোড ও পোস্ট অফিস এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। এছাড়া জেলার শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, মংলা ও রামপাল উপজেলার নিন্মাঞ্চল বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে চিতলমারীতে প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে কয়েক হাজার চিংড়ি ঘের। ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে কয়েক শতাধিক বসতঘর। বিপুল পরিমাণ গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও উপড়ে পড়ে কয়েক কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিতে ৭টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার চিংড়ি ঘের তলিয়ে মাছ ভেসে গেছে। এতে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে মাছ চাষিরা। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে গেছে ঘেরের পাড়ে থাকা সব প্রকার সবজি।

রবিবার দুপুরে মাত্র ৫ মিনিটে ঝড়ে উপজেলার শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ সময় ঝড়ে বিপুল পরিমাণ গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও উপড়ে পড়ে কয়েক কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হয়। ঘরের ওপর গাছ চাপা পড়ে স্কুল ছাত্রী আরবী আক্তার, বিথি আক্তার, চিংড়ি চাষি দেবাষিশ বিশ্বাসসহ ৪ জনের আহত হওয়ার খবর জানা গেছে।

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপক (ট্রাফিক) আব্দুস সালাম বলেন, বন্দরে বর্তমানে সাতটি জাহাজ অবস্থান করছে। প্রবল বৃষ্টিতে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজে বিঘ্ন ঘটছে।

বাগেরহাট শহরের বাসাবাটি এলাকার বাসিন্দা চিন্ময় পাল ও সুমন কোটাল বলেন, আমাদের এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় অল্প বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। এতে আমাদের চলাচলে দারুণ অসুবিধা হয়। তাই আমাদের এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য তৈরি করা ড্রেনগুলো প্রশস্ত করার দাবি জানাচ্ছি।

বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান বলেন, বাগেরহাট পৌরসভার ড্রেনের পানি নামে ভৈরব নদী দিয়ে সেই নদীতে বর্তমানে জোয়ারের পানির প্রবল চাপ। তাই শহরের ড্রেন দিয়ে পানি নামতে না পারায় বৃষ্টির পানিতে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন- ফরিদপুরে টর্নেডোর আঘাতে জুট মিল ধসে ৫ কর্মীর মৃত্যু, আহত শতাধিক

/এফএস/