দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরার মাছ চাষিরা চলতি মৌসুমে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে সবজি চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা থেকে প্রতি বছর মাছ চাষে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আসে। যে কারণে এখানকার বাগদা চিংড়িকে বলা হয় ‘সাদা সোনা’। গত বছর মাছের ঘেরের ওপর ৫শ’ হেক্টর জমিতে সবজিসহ বিভিন্ন ফসল চাষ হয়েছিল। চাষিরা লাভবান হওয়ায় এ বছর তা বেড়েছে।
জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলা মাছ চাষের জন্য প্রসিদ্ধ। বাগদা চিংড়িতে নানান অপদ্রব্য পুশের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা। তাই মৎস্য ঘেরের পাড়ে সবজি চাষ করে বাড়তি লাভের আশায় সম্মিলিত চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন নতুন কৃষকরা।
কালিগঞ্জের নিজদেবপুর গ্রামের কৃষক রিজাউল করিম সবুজ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গত বছর ১৫ বিঘা মাছের ঘেরে গলদা চিংড়ি, বাগদা ও পুকুরে রুই, কাতলা, সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন প্রকার মাছ চাষ করেছেন। একই সঙ্গে ঘেরের বেড়িতে লাউ, কুমড়া, পেঁপে, ঝিঙ্গে, বেগুনসহ মিশ্র সবজির চাষে প্রচুর টাকা পেয়েছেন তিনি। খরচ খুব কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় এ বছর তিনি ২০ বিঘা জমিতে মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে সবজি চাষ করছেন।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,মাছের সঙ্গে সঙ্গে পুকুরের এবং ঘেরের পাড়ে লাউ, কুমড়া, বেগুন, করোলা, কপিসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করে বাড়তি টাকা আয় করছেন চাষিরা।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ঘেরের পাড়ে জমিতে করলা, বেগুন, কচু, লাউ, কুমড়া, পুঁইশাক, ঢেঁড়স, বরবটি,পেঁপে চাষ করা হচ্ছে। এতে কৃষকেরা দুইভাবে লাভ পাচ্ছেন। গত বছর মৎস্য ঘেরের বেড়ীতে ৫শ’ হেক্টর জমিতে এই সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হয়েছিল। কৃষকরা লাভবান হওয়ায় ক্রমশ মিশ্রচাষে তাদের আগ্রহ বাড়ছে। মাছের কারণে কীটনাশকমুক্ত হচ্ছে এসব সবজি।
আরও পড়ুন: কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
/এমএসএম/আপ-এআর/