২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার আশা প্রকাশ করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মজিবুল হক (চুন্নু)। আজ মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) খুলনায় এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
শ্রম প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ওই লক্ষ্য অর্জনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সরকার এ দুটি লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে।
খুলনা বিভাগীয় শিশুশ্রম নিরসন কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে সকাল ১০টায় খুলনা সিএসএস আভা সেন্টারে শিশুশ্রম নিরসন বিষয়ক উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী ১৪ বছর পর্যন্ত কোনও শিশু কারখানায় কাজ করতে পারবে না। ১৪ থেকে ১৮ বছরের কিশোর বয়সীরা হালকা কাজ করতে পারবে। সরকার ইতোমধ্যে গৃহকর্মী সুরক্ষা কল্যাণ নীতি ২০১৫ ঘোষণা করেছে। শ্রম আইনের আলোকে প্রণীত এ নীতিতে গৃহপরিচারিকাদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের ঘুম ও বিশ্রামের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত স্থান নিশ্চিত করাসহ মর্যাদাপূর্ণ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এ নীতিমালাকে শিগগিরই আইনে পরিণত করা হবে।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব খন্দকার মোস্তান হোসেন, খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান এবং বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ) এর সভাপতি মো. ইমরানুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রতিনিধি সৈয়দা মুনিয়ারা সুলতানা।
অনুষ্ঠানে বিএসএএফ এর প্রতিনিধি জানান, ২০১৩ সালের জরিপ অনুসারে বাংলাদেশে প্রায় ১৭ লাখ শিশু শ্রমে নিয়োজিত, যার মধ্যে প্রায় ১৩ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। বিগত ১০ বছরে কর্মজীবী শিশুর সংখ্যা ৩৪ লাখ থেকে প্রায় ১৭ লাখে নেমে এসেছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা ১৩ লাখ থেকে মাত্র ১ লাখ কমানো গেছে। আগামী পাঁচ বছরে ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম নিরসনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ২০২৫ সালের মধ্যে সব ধরণের শিশুশ্রম বন্ধ করা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও জানান হয় বিড়ি সিগারেট, প্লাস্টিক বা রাবার সামগ্রী, চামড়াজাত দ্রব্য তৈরি, কাপড়ে রং বা বি¬চ করা, কীটনাশক তৈরি ও কেমিক্যাল ফ্যাক্টরিতে কর্মী হিসেবে, ইলেক্ট্রিক মেশিনের কাজ এবং ট্রাক-টেম্পু-বাসের হেলপারসহ ৩৮টি কর্মক্ষেত্র শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিভাগীয় শিশু কল্যাণ কাউন্সিলের সদস্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সকরারি কর্মকর্তা এবং বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নেন।
আরও পড়ুন-
মীর কাসেমের ফাঁসির রায় বহাল
সবচেয়ে বেশি সময় লাগলো মীর কাসেমের রিভিউতে
/এফএস/