প্রাগপুর থেকে কলকাতার দূরত্ব ১২০ কিলোমিটার। আর ঢাকার দূরত্ব ২৫০ কিলোমিটার। প্রাগপুর সংলগ্ন ভারতীয় অংশের নাম শিকারপুর। এটি নদীয়া জেলার কাশিমপুর থানায় পড়েছে। পদ্মার ছোট শাখা নদী মাথাভাঙ্গা দু'দেশের সীমান্ত ভাগ করে রেখেছে। নদীর এপাড় ঘেঁষে প্রাগপুর বাজার। সেখান থেকে ঢাকাগামী বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। আর নদীর ওপারের পাড় ঘেঁষে ভারতের শিকারপুর। কাঁটাতারের বেড়ার পাশাপাশি একটি বিএসএফ ক্যাম্প রয়েছে। আছে শিকারপুর থেকে কলকাতা যাওয়ার মহাসড়ক। প্রয়োজন শুধু ৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু। যে সেতুটি নির্মিত হলে দু'দেশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ শুরু করা সম্ভব হবে।
২০১১ সালের ১ অক্টোবর নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান কুষ্টিয়া সফরে গিয়ে প্রাগপুরে স্থলবন্দর করার ব্যাপারে খোঁজ নেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই মাসের ২৫ তারিখে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মফিদুল ইসলাম প্রাগপুর পরিদর্শন করেন। তার প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত এক বৈঠকে দেশে ৬টি নতুন স্থলবন্দর স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। তার মধ্যে প্রাগপুর স্থলবন্দরও আছে।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আহমেদ রাজু জানান, মাথাভাঙ্গা নদীতে একটি ব্রিজ হলে দৌলতপুর থেকে ভারতের করিমপুর, কৃষ্ণনগর, নতুন শিকারপুরের যোগাযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে পণ্য আনা-নেওয়া সহজ হবে। তিনি আরও জানান, দৌলতপুরে স্থলবন্দর হলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সহজেই পণ্য আনা-নেওয়া সম্ভব হবে। কারণ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা সড়কটি সরাসরি প্রাগপুর হয়ে ভারতের করিমপুর কৃষ্ণনগরে প্রবেশ করেছে। এছাড়াও দৌলতপুরের প্রাগপুরে স্থলবন্দর হলে সরকার প্রতিবছর কয়েক শ কোটি টাকা রাজস্ব পাবে। সম্ভব হবে চোরাচালানও রোধও।
স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরী বলেন, প্রাগপুর সীমান্তে স্থলবন্দর হলে দৌলতপুরসহ কুষ্টিয়ায় উন্নয়ন সাধিত হবে। এ বন্দর দিয়ে মালামাল পরিবহনের ক্ষেতে ঢাকার দূরত্ব অনেকাংশে কমে যাবে।
/এআরএল/
আরও পড়ুন: