অজ্ঞাত হিসেবে যশোরে দাফন হওয়া ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম আবুল কাশেম (৫৫)। তিনি চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় যশোর কোতয়ালি থানায় নিহতের স্বজনরা সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
নিহতের ভাইয়ের ছেলে শামিম রেজা সুমন বলেন, ৩১ আগস্ট বিকালে তার চাচা ঢাকার যাওয়ার উদ্দেশে যশোরে আসেন। তাকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে আসেন দেহরক্ষী আশিকুর রহমান। আশিকুর চাচাকে যশোরের ধর্মতলায় নামিয়ে চৌগাছা ফিরে যান। এরপর থেকে চাচার কোনও খোঁজ-খবর পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর ২ সেপ্টেম্বর চৌগাছা থানায় একটি জিডি করা হয়।
১ সেপ্টেম্বর যশোর শহরের ষষ্টিতলার সুরেন্দ্রনাথ সড়কের লালের পুকুরপাড় থেকে মধ্যবয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে কোতয়ালি থানা পুলিশ। পরদিন আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবে যশোর শহরের ঘোপ কবরস্থানে দাফন করে।
যশোর পুলিশের অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পেরে আবুল কাশেমের পরিবারের লোকজন শনিবার সন্ধ্যায় কোতয়ালি থানায় আসেন। তারা নিহতের ছবি দেখে সেটি আবুল কাশেমের বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, আবুল কাশেমকে রাজনৈতিক কারণে হত্যা করা হয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান শাহিনুরের লোকজনের এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।
আবুল কাশেম এবার পাশাপোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া গত ১৭ বছর ধরে তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানা যায়, বছর পাঁচেক আগে পাশাপোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমানের এলাকায় মিটিং করতে যান আবুল কাশেম। কিন্তু শাহিনুরের লোকজন তাকে সেখানে সভা করতে দেননি এবং সেইসময় তাকে হত্যার উদ্দেশে ধাওয়া করা হয়।
চৌগাছার ফুলসারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান জানান, আবুল কাশেমের লাশ যশোর থেকে উত্তোলন করে পাশাপোলে নিয়ে ফের দাফন করতে চায় তার পরিবার।
এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন যশোর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।
মেহেদি হাসান আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহম্মদ সোহেল হাসানের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। জেলা প্রশাসক ও আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সুরাহা করার চেষ্টা করছি।’
/এমডিপি/এসটি/